তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর সার্বিক রক্ষাকবচের আবেদনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিটি মামলার অভিযোগ আলাদা হলে সব ক্ষেত্রেই একই ধরনের আইনি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। মামলার বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেছে আদালত।
শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibal)। তিনি আদালতে জানান, বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট মামলায় তাঁর মক্কেলের রক্ষাকবচ রয়েছে। তবে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া বাকি মামলাগুলিতেও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় মোট আটটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ রয়েছে। বাকি মামলাগুলিতে গ্রেফতার-সহ কোনও কড়া পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা চেয়েই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, প্রতিটি মামলার অভিযোগের প্রকৃতি যখন আলাদা, তখন সব ক্ষেত্রেই একসঙ্গে সার্বিক রক্ষাকবচ কীভাবে দেওয়া সম্ভব? আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন নির্দেশ তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিচারপতি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শিলিগুড়ির অভিযোগ এবং ভবানীপুরের অভিযোগ এক নয়, তাই প্রতিটি মামলাকে পৃথকভাবে বিবেচনা করাই যুক্তিসঙ্গত।
শুনানির এক পর্যায়ে কপিল সিব্বল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র প্রসঙ্গ তোলেন। তবে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অন্য কোনও ব্যক্তির মামলার সঙ্গে এই মামলার তুলনা টানা যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও কখনও সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া হয়নি; নির্দিষ্ট মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বা আগাম জামিনের মতো আইনি সুবিধা মিলেছিল।
অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী এস. ভি. রাজু (S. V. Raju) জানান, বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পেশ করতে তাঁর আরও সময় প্রয়োজন। সেই কারণেই এদিন চূড়ান্ত শুনানি সম্ভব হয়নি।
তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও করেছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, ৩০ জুলাইয়ের পরবর্তী শুনানির আগে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে তিনি অবিলম্বে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন। ফলে সার্বিক রক্ষাকবচ না মিললেও আপাতত আইনি প্রতিকারের পথ খোলা থাকছে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
Leave a Comment