---Advertisement---

সিকিমের তিস্তা টানেল বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ২২, গভীর সুড়ঙ্গে এখনও নিখোঁজদের খোঁজে রাতভর উদ্ধার অভিযান

By Suman Debnath

July 23, 2026 10:50 AM

সিকিমের তিস্তা টানেল বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ২২, গভীর সুড়ঙ্গে এখনও নিখোঁজদের খোঁজে রাতভর উদ্ধার অভিযান

---Advertisement---


সিকিমের (Sikkim) তিস্তা স্টেজ-৬ (Teesta Stage VI) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল দুর্ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২-এ পৌঁছেছে। গভীর সুড়ঙ্গে এখনও আটকে থাকা শ্রমিকদের খুঁজে বের করতে এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), এনএইচপিসি (NHPC) এবং একাধিক বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল দিন-রাত এক করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার রাতভর টানেলের ভিতরে উদ্ধার অভিযান চলে। রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (Eastern Coalfields Limited)-এর বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। গভীর সুড়ঙ্গে জল জমে থাকা, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও মধ্যরাত পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যান।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা এখন ২২। এখনও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বের করতে উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনাকে ইতিমধ্যেই সিকিমের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার মার্কিন নাগরিক, পাসপোর্ট ছাড়া ৮ মাস ভারতে, উঠছে প্রশ্ন

উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে এনএইচপিসি বিশেষ সমন্বিত উদ্ধারকারী দল গঠন করেছে। সেখানে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF), মাইনস সেফটি-র বিশেষজ্ঞ, নির্মাণ সংস্থার কর্মী এবং প্রযুক্তিবিদরা একসঙ্গে কাজ করছেন। টানেলের ভিতরে জমে থাকা জল বের করার পাশাপাশি বাতাস চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরির কাজও চলছে। ইতিমধ্যেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জল নিষ্কাশন পাম্প চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং (Samardung)-এ ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হেড রেস টানেল (Head Race Tunnel)-এ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বর্তমানে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, এনএইচপিসি, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (Patel Engineering Limited), ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড এবং ওয়েস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (Western Coalfields Limited) যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এনএইচপিসির শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

আরও পড়ুন:  প্রাথমিক স্তর থেকেই যৌন শিক্ষা চালুর পথে দেশ, সুপ্রিম কোর্টকে জানাল কেন্দ্র

এদিকে মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে এককালীন আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে এনএইচপিসি। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (Prem Singh Tamang) জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি নির্মাণ সংস্থার গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও গোটা উদ্ধার অভিযান এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর নিয়মিত নজর রাখছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment