দেশের স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে শীঘ্রই অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে কমপ্রিহেনসিভ সেক্স এডুকেশন। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের যৌন স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্মতি, সম্পর্ক এবং যৌন নির্যাতন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও বয়সভিত্তিক শিক্ষা দিতে ২৬ সদস্যের জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি বা ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ২০২০ অনুসারে খুব শীঘ্রই এনসিইআরটি এই নতুন পাঠ্যক্রমের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করবে।
এই উদ্যোগের সূচনা হয় চিকিৎসক ও সমাজকর্মী রুদ্রাণী দেবীর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর দায়ের হওয়া একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে। মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র নবম বা একাদশ শ্রেণি থেকে নয়, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের বয়স অনুযায়ী যৌন শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। আদালতের মতে, ছোটবেলা থেকেই ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সম্মতির গুরুত্ব শেখানো হলে শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, নতুন পাঠ্যক্রমে শুধু প্রজনন বা যৌন সম্পর্ক নয়, বরং বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত সীমারেখা, সম্মতির গুরুত্ব, স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক, অনলাইন নিরাপত্তা, সাইবার শোষণ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন চিহ্নিত করে অভিযোগ জানানোর উপায় শেখানো হবে।
বিশেষজ্ঞ কমিটি সুপারিশ করেছে, প্রতিটি স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে অন্তত ২ দিন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বিশেষ সচেতনতামূলক ক্লাস নেওয়া হবে। এই ক্লাস নেবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে, যাতে সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে তাঁরাও স্বাভাবিক ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্ট শুনানিতে আরও বলেছে, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সে পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সব সম্পর্ককে একইভাবে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনে মামলা হয়, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যতের উপর পড়ে।
আদালতের মতে, সঠিক ও বৈজ্ঞানিক যৌন শিক্ষা এই ধরনের পরিস্থিতি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করবে।কেন্দ্রের বক্তব্য, যৌন শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সঙ্কোচ কাটিয়ে শিশুদের সঠিক তথ্যভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এতে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে নতুন এই পাঠ্যক্রম।
Leave a Comment