রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে দুই শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্কবার্তা গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
হামলার কয়েক দিন আগে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, মধ্য ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরের কাছে একটি গ্রামে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একটি বাড়িতে আঘাত হানলে পাঁচ ও ১২ বছর বয়সি দুই শিশুকন্যাসহ ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানী কিয়েভেও একজন নিহত হয়েছেন। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রাতভর হামলায় তিনটি অনাবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শহরের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানান, সেখানে কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ইউক্রেনের আরও কয়েকটি শহরে হামলা হয়েছে। বিবিসি ইউক্রেনের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে বলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পেনজা শহরে একটি গুদামে রাতের বেলায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ মেলনিচেঙ্কো জানান, ওয়াইল্ডবেরিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গুদামে হামলায় একজন আহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায়ই ‘রাশিয়ার অ্যামাজন’ বলা হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে এর বিভিন্ন স্থাপনা ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
আমার বাঙলা/ হুমায়রা
Leave a Comment