রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে ‘গুন্ডা দমন আইন’। একইসঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালুর লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। আর গুন্ডা দমন আইন কার্যকর হওয়ার ফলে আর কোনওদিন সামশেরগঞ্জ কিংবা ধূলিয়ানের মতো ঘটনা ঘটবে না বলেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে কদিন আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। যার প্রেক্ষিতে কড়া ভাষায় বিধানসভা থেকে জবাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার মুর্শিদাবাদ সফরে এসে নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে সতর্কবার্তা দিয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। হিংসা অতীত এবং আইনের শাসনই শেষ কথা মুর্শিদাবাদে প্রথম সফরে এসে এই বার্তাই দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী নানা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারি আধিকারিক এবং কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই বহরমপুরের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ‘রাজ্যে আর কোনওভাবেই অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। বিধানসভায় পাশ হওয়া এই নতুন বিলে রাজ্যপালের সিলমোহর মিলেছে। সোমবার থেকে এটি পুরোদমে কার্যকর হবে। রেললাইন ভাঙা, ট্রেন জ্বালানো, বিডিও অফিস ভাঙচুর বা পুলিশকে মারার দিন শেষ। এসব এখন অতীত। রাজ্যে আইন মেনে সবাইকে চলতে হবে।’
অন্যদিকে ২০১৯ সালে সিএএ পাশের পর পশ্চিমবঙ্গে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ায় ব্যাপক অশান্তির পরিবেশ দেখা দেয়। প্রতিবাদের নামে সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এদিন সে কথা স্মরণ রকিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘নারী সুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মামলাগুলির বিচার দ্রুত করতে হবে। সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সেসব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা। নিয়ম মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া হয়ে গিয়েছে। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে লাগু হবে গুন্ডাদমন আইন। এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, এই করব, ওই করব, কেউ বলবে, জেলে ৪৭ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব। দয়া করে এইসব ভাষণবাজি আর করবেন না।’ নাম না করে এভাবেই হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করে দেন মুখ্যমন্ত্রী বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে সরকারি প্রকল্প নেওয়ার অভিযোগ আগেই উঠেছে। সে কথা আবারও শোনালেন শুভেন্দু। তবে সঙ্গে ছিল হুঁশিয়ারিও। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া দাওয়াই, ‘তদন্ত এখন চলছে। যদি বিডিও এই কাজ করে থাকেন, বিডিওকে জেলে যেতে হবে। বিএমওএইচ করলে তাঁর চাকরি যাবে। আমরা আরজি কর কেসে তিনজন সিনিয়র আইপিএস-কে যদি সাসপেন্ড করতে পারি, তার উপরে তো কেউ নয়! তাই ভরসা রাখতে পারেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ-সহ নানা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখলাম, অন্তত ৬০০টি ভুয়ো। এই জেলায় নানা সরকারি প্রকল্পে অধিকাংশই জাল। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এবার আমরা ভাল করে নথি পরীক্ষা করছি। ভুয়ো যারা ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Comment