নিজস্ব সংবাদদাতা | কৃষ্ণপুর, ৪ জুন: রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী তথা কৃষ্ণপুর বিধানসভার বিধায়ক Bikash Debbarma-র নির্বাচনী এলাকায় দিন দিন বাড়ছে জনঅসন্তোষ। একসময় উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের সমর্থন অর্জন করা হলেও বর্তমানে এলাকার একাংশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে উন্নয়নের পরিবর্তে এখন কৃষ্ণপুর জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পানীয় জল সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি।
কৃষ্ণপুর বিধানসভার অন্তর্গত ভূমিহীন টিলা এলাকায় প্রায় ৭০টি পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক পরিষেবার অভাবে এলাকাবাসী নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে পানীয় জলের সমস্যা বর্তমানে সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় একটি বড় জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে এবং জল সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলাধার ও পাইপলাইন থাকলেও নিয়মিত জল সরবরাহ করা হয় না। অনেক সময় দিনের পর দিন পানীয় জলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার দূরবর্তী স্থান থেকে জল সংগ্রহ করছেন। ফলে নারী, শিশু ও প্রবীণদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকল্পের ঘোষণা করা হলেও তার বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, সমস্যার কথা বারবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এলাকাবাসীর আরেকটি বড় অভিযোগ জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের অভাব নিয়ে। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট প্রচারের সময় এলাকায় এসেছিলেন মন্ত্রী ও বিধায়ক। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় তাঁর উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের সমস্যার খোঁজখবর নেওয়া কিংবা উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের সময় ভোট চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, উন্নয়নমূলক চাহিদা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি নিয়মিত নজর দেওয়াই একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির পরিচয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেই মনে করছেন তারা।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসন্তোষ এখন শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শাসকদলের কিছু কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যেও ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের এখনও সময় থাকলেও জনরোষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ একটি নির্বাচনী এলাকায় মৌলিক পরিষেবার অভাব এবং জনগণের সঙ্গে প্রতিনিধির দূরত্ব দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে পানীয় জল, রাস্তা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জনপরিষেবা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না হলে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে কৃষ্ণপুরের মানুষ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান। তাদের দাবি, ঘোষণার পরিবর্তে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা হোক। ভোটের সময় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ভোটের পর মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর সেই কারণেই কৃষ্ণপুরের সাধারণ মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন—জনগণের প্রতিনিধি কি সত্যিই জনগণের পাশে আছেন?
Leave a Comment