মেলাঘর, ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেলাঘরজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করল ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (DYFI)। সংগঠনের উদ্যোগে মেলাঘরের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক চারাগাছ রোপণ করা হয়। স্থানীয় যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি এলাকাবাসীর মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ, বনভূমি ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের প্রাকৃতিক সংকট দেখা দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই কর্মসূচি গ্রহণ করে DYFI।
শুক্রবার সকালে সংগঠনের সদস্যরা মেলাঘরের বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইন্দিরানগর স্কুল প্রাঙ্গণ, স্থানীয় মাদ্রাসা এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন মোড়ে প্রায় ৫০টিরও বেশি চারাগাছ রোপণ করা হয়। রোপণ করা গাছগুলোর মধ্যে ছিল নিম, মেহগনি, জাম এবং আগরসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব ও মূল্যবান প্রজাতির গাছ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণে রোপণ করা প্রতিটি চারাগাছের দেখভালের জন্য স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব গাছ বড় হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন DYFI বিভাগীয় সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সাহা, মেলাঘর পশ্চিম অঞ্চল সম্পাদিকা সুস্মিতা দাস এবং মেলাঘর অঞ্চল সভাপতি প্রসেনজিৎ পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন DYFI বিভাগীয় কমিটির সদস্য মন্নান মিয়া, যুব নেতা হোসেন মিয়া, রফিক মিয়া, ইন্দ্রজিৎ দাস এবং ছাত্রনেতা তালহা জুবায়েরসহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মী ও সমর্থকরা।
কর্মসূচি চলাকালীন নেতৃবৃন্দ পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। প্রত্যেক ব্যক্তি যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগান এবং তার সঠিক পরিচর্যা করেন, তাহলে পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে যুব সমাজকে পরিবেশ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে DYFI-এর এই কর্মসূচি প্রশংসার দাবিদার বলে মত প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আয়োজিত এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানোই নয়, বরং একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনের বার্তাও তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে DYFI নেতৃত্ব।
Leave a Comment