---Advertisement---

দুই মাস ধরে বন্ধ বার্ধক্য ভাতা, চরম দুর্দশায় বিশালগড়ের অসহায় বৃদ্ধা!

By Suman Debnath

June 5, 2026 10:54 AM

দুই মাস ধরে বন্ধ বার্ধক্য ভাতা, চরম দুর্দশায় বিশালগড়ের অসহায় বৃদ্ধা

---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, বিশালগড়, ৫ জুন: সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বার্ধক্য ভাতা বহু প্রবীণ মানুষের জীবনের অন্যতম ভরসা। কিন্তু সেই ভাতাই যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এমনই এক করুণ চিত্র সামনে এসেছে বিশালগড়ের শীতলটিলা এলাকা থেকে। এক অসহায় বৃদ্ধা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনসংগ্রাম ও দুর্বিষহ বাস্তবতার কথা।

বৃদ্ধার অভিযোগ, গত প্রায় দুই মাস ধরে তিনি বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। নিয়মিত ভাতা না পাওয়ায় খাদ্য, চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে তাঁকে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  গুলি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত রণবীর দেবনাথ গ্রেফতার, এলাকায় চাঞ্চল্য!

সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের দুঃখের কথা জানাতে গিয়ে বৃদ্ধা বলেন, পরিবার থেকেও তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তাঁর ছেলে নেশাগ্রস্ত এবং অধিকাংশ সময় রাস্তায় পড়ে থাকে। অন্যদিকে মেয়েও তাঁর খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা পাশে না থাকায় একপ্রকার একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রবীণ নারী।

বৃদ্ধার কথায়, বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া তো দূরের কথা, অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্যও থাকে না তাঁর।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মানুষের দয়া ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই কোনোভাবে দিন কাটছে। প্রতিবেশী কিংবা এলাকার কিছু সহৃদয় ব্যক্তি মাঝেমধ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কেউ কিছু টাকা দেন, আবার কেউ খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন। সেই সাহায্যের ওপর ভর করেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে এই পরিস্থিতি যে কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান বৃদ্ধা।

আরও পড়ুন:  শিক্ষা ও জাতীয় চেতনার মিলনক্ষেত্র: ফকিরমুড়ায় মা সৌন্দর্য চিন্ময়ী মন্দিরের শুভ উদ্বোধন করলেন মোহন ভাগবত!

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সরকারি ভাতা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে নিয়মিত পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ সমাজের অনেক প্রবীণ নাগরিক রয়েছেন, যাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন এই ভাতাই। ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অসহায় বৃদ্ধা তাঁর বন্ধ হয়ে যাওয়া বার্ধক্য ভাতা পুনরায় চালু করার জন্য বিশালগড়ের বিধায়কের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির প্রতি নজর দিলে হয়তো আবারও ভাতা পাওয়া শুরু হবে এবং কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে তাঁর জীবনে।

প্রবীণ এই নারীর একটাই চাওয়া—সরকারের পক্ষ থেকে যে ভাতা তাঁর প্রাপ্য, তা যেন নিয়মিতভাবে তাঁর হাতে পৌঁছায়। জীবনের শেষ বয়সে তিনি আর কোনো বিলাসিতা চান না; শুধু চান দু’বেলা খাবার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং সামান্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ।

আরও পড়ুন:  আবারো দক্ষিণ হিছাছড়া এডিসি পঞ্চায়েত রাতের আঁধারে স্থানীয় চুরির তাণ্ডব।

এদিকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কত দ্রুত এই অসহায় বৃদ্ধার সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হন এবং তাঁর বন্ধ হয়ে যাওয়া বার্ধক্য ভাতা পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করেন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment