রাইস্যাবাড়ি, যশপাল সিং: বহু প্রত্যাশা ও জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের পরও দীর্ঘ আট মাস কেটে গেলেও এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি রাইস্যাবাড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শকের (আই/এস) অফিস। ফলে প্রশাসনিক পরিষেবা ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অফিসটি দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার এমডিসি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা।
জানা গেছে, এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম সহজতর করা এবং জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার উদ্দেশ্যে গত ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাইস্যাবাড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পর এই কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছিল।
কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত অফিসটি কার্যকরভাবে চালু করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় অফিসটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে দুজন ক্লার্ক (করণিক) এবং একজন গ্রুপ-ডি কর্মীর পদ এখনও শূন্য থাকায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে টিটিএএডিসি-র শিক্ষা ও পর্যটন দপ্তরের নির্বাহী সদস্য চন্দ্র কুমার জমাতিয়ার কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন এমডিসি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, রাইস্যাবাড়ি ও আশপাশের এলাকার মানুষকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবা পেতে এখনও দূরবর্তী স্থানে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ধনঞ্জয় ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, জনগণের সুবিধার্থে যে অফিসটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটি উদ্বোধনের পরও দীর্ঘ সময় বন্ধ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে সরকারি পরিষেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাইস্যাবাড়ি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অফিস চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ না হওয়ার কারণে অফিসটি এখনও চালু করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এমডিসি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অফিসটির স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার জন্যও অনুরোধ করেছেন। তাঁর মতে, অফিসটি চালু হলে এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবা সহজেই নিজেদের এলাকায় বসে পেতে পারবেন।
রাইস্যাবাড়ি এলাকার বাসিন্দারাও আশা করছেন, টিটিএএডিসি কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বহু প্রতীক্ষিত বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসটি শীঘ্রই সম্পূর্ণরূপে সচল হবে। এতে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Leave a Comment