পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। নতুন গঠিত ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড (National Strategic Command – NSC)-এর নেতৃত্বে রয়েছেন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir)। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশের মত। তবে এই পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব, বিশেষ করে পাকিস্তানের পরমাণু নীতির উপর কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখনও নানা আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের সংসদে ২৭তম সংবিধান সংশোধনী পাস হয় এবং পরে তাতে অনুমোদন দেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি (Asif Ali Zardari)। সেই সংশোধনীর ভিত্তিতেই ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড গঠনের পথ তৈরি হয়। এই সংস্থার লক্ষ্য কৌশলগত প্রতিরক্ষা সম্পদ ও সমন্বিত সামরিক পরিকল্পনার তদারকি করা।
একাধিক পাকিস্তানি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতদিন যে দায়িত্ব ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (National Command Authority – NCA)-র অধীনে ছিল, নতুন কাঠামোর ফলে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি এনএসসি-র মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি। তাই “সমস্ত পরমাণু অস্ত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এককভাবে আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে”—এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদনগুলিতে আরও বলা হয়েছে, আসিম মুনির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের নেতৃত্বের জন্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা (Syed Amir Raza)-কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নতুন এই কাঠামো চিনের (China) পিপলস লিবারেশন আর্মি রকেট ফোর্স (PLA Rocket Force)-এর ধাঁচে তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বাহিনী এবং অন্যান্য কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা। যদিও এই মূল্যায়ন বিশ্লেষকদের মতামত, পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, পাকিস্তানের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যদি আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ ধরনের মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে এবং তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত নয়।
আসিম মুনির গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চিন—দুই দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (China-Pakistan Economic Corridor – CPEC)-সহ প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা এগিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে আগামী দিনে নতুন কমান্ড কাঠামো কীভাবে কার্যকর হয় এবং দেশটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর ভূমিকা কতটা বাড়ে, তার উপর। আপাতত বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
Leave a Comment