রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলির বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন সেনেটে একটি নতুন শুল্ক বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এমন দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে ভারতের পাশাপাশি চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজ়েরবাইজানও সরাসরি এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার বিলটির বিষয়ে বিস্তারিত জানান মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির উপর নির্ভরশীল প্রধান পাঁচটি দেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
নতুন প্রস্তাব শুধু অপরিশোধিত তেলেই সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা দেশগুলির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে। হোয়াইট হাউস এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে গতি পেতে পারে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগস্টের আগেই বিলটি সেনেটে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আসলে এই বিল সম্পূর্ণ নতুন নয়। গত বছরের এপ্রিলে প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একটি কঠোর শুল্ক বিল কংগ্রেসে পেশ করেছিলেন। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির আমদানিকৃত পণ্যের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদিও সেই বিল কার্যকর হয়নি। এবার তারই সংশোধিত ও তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত সংস্করণ হিসেবে ১০০ শতাংশ শুল্কের নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে।
মার্কিন সেনেট সূত্রের দাবি, সংশোধিত বিলটির পক্ষে ইতিমধ্যেই ২৬ জন সেনেটর সমর্থন জানিয়েছেন। আগামী দিনে আরও সদস্য এই প্রস্তাবের পাশে দাঁড়াতে পারেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে আগেও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে। মার্কিন আদালত রায় দিয়েছিল, জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়। পরবর্তীতে সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ শুল্কের নীতি ঘোষণা করা হলেও সেটিও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে এবার রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক কাঠামো আনার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়িত হবে, কোনও ছাড় মিলবে কি না এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কে এর কী প্রভাব পড়বে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
Leave a Comment