ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরেই আদানি ইউনিট বন্ধ, ভারতের ষড়যন্ত্র বলে দাবি বিএনপি নেতার

By Suman Debnath

September 17, 2026 5:05 PM

ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরেই আদানি ইউনিট বন্ধ, ভারতের ষড়যন্ত্র বলে দাবি বিএনপি নেতার


দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরের দিনই ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই দুই ঘটনার মধ্যে সময়ের মিল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত ‘ষড়যন্ত্রের জাল’ বুনছে।

বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপি-র শীর্ষস্তরের নেতা রিজভীর দাবি, তারেক ব্রিক্‌স সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরের দিনই গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর কথায়,’এর পেছনে কারণটা কী ছিল ?’ তাঁর দাবি, এর পেছনে বাংলাদেশের প্তরাক্বেতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদত রয়েছে। যদিও গোড্ডা কেন্দ্রের বিভ্রাটকে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারিগরি ত্রুটি হিসাবেই জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:  ডিপ স্টেট কী? কিভাবেই বা কাজ করে এরা?

ঝাড়খণ্ডের ১,৬০০ মেগাওয়াটের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কেন্দ্রটির একটি ইউনিটে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। মেরামতের পর ১৩ সেপ্টেম্বর ইউনিটটি ফের গ্রিডে যুক্ত হয়। সেই সময়ে বাংলাদেশে প্রায় ২,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি চলছিল এবং বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছিল।

রিজভী আরও দাবি করেন, কেন্দ্রটি ভারতে হওয়ায় প্রয়োজনে সেখান থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা চালু করা সম্ভব। তবে এই দাবির সমর্থনে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি।

ব্রিক্‌স সম্মেলনে তারেকের যোগ না দেওয়ার বিষয়েও ভারত ও বাংলাদেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের তরফে বলা হয়েছে, তাঁকে বিমস্টেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিক্‌স আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভারত জানিয়েছে, তাঁকে দু’টি পৃথক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল—একটি দ্বিপাক্ষিক স্তরে এবং অন্যটি ব্রিক্‌সের আউটরিচ অধিবেশনের জন্য।

আরও পড়ুন:  ইরানে ফের যুদ্ধ নিয়ে দোটানায় ট্রাম্প! সামরিক অভিযানের পক্ষে হেগসেথ, নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পরামর্শ উপদেষ্টাদের

এর আগে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে পরপর কারিগরি সমস্যার ঘটনাতেও অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রিজভী। ২০২৪ এর ডিসেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্য বয়কটেরও ডাক দিয়েছিলেন।পণ্য বর্জনের পক্ষে কথা বলার সময় তিনি রাজশাহী শহরের এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে তাঁর স্ত্রীর ভারতীয় শাড়িও পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে গোড্ডা ও মহেশখালীর ঘটনাগুলিকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কারিগরি ত্রুটি হিসাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

রিজভি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। দলীয় চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঠিক পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। গত আগস্টে দেশের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে রিজভীর এই পদে ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment