নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose)-কে ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় আসার আগে নেতাজির অন্তর্ধান-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বরং নেতাজিকে অসম্মান করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে নেতাজি-সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল প্রকাশের দাবিতে সরব হওয়ার আহ্বান জানান তৃণমূল নেত্রী।
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় মমতা বলেন, নেতাজি শুধু বাংলার নয়, সমগ্র দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান মুখ। তাঁর মতে, দেশের ইতিহাসে নেতাজির অবদানকে খাটো করার চেষ্টা চলছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (Indian National Army) গঠন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্তর্জাতিক রূপরেখা তৈরি—সব ক্ষেত্রেই সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান অনস্বীকার্য। আন্দামান-নিকোবরকে স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা এবং ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানকে জাতীয় চেতনার অংশ করে তোলার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বর্তমানে দেশের ইতিহাস থেকে নেতাজি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)-এর মতো ব্যক্তিত্বদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে এবং জাতীয় নেতাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, কেন্দ্রের শাসক দল একসময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে নেতাজির অন্তর্ধান-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই তিনি ফের নেতাজি ফাইল প্রকাশের দাবি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে কর্মসূচি করার অনুমতি পেতেও আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি।
জনগণনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, জনগণনার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জনগণনার নামে কারও নাম বাদ পড়ছে কি না, তা নিয়েও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে তার সমাধান হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে নেতাজি ইস্যু, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জনগণনা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নেতাজির উত্তরাধিকার এবং ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনেও সরব থাকবে।
Leave a Comment