বারুইপুরে গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডের নেপথ্যে কাজ করেছিল বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা, চরস, মাদক। এই বিষয়গুলিকে বারুইপুরে দাঁড়িয়েই দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এই বিষয়টিকেই সমূলে উপড়ে ফেলতে শনিবার কড়া পদক্ষেপের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। আর তাই আগামী দু’সপ্তাহ রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদ, গাঁজা, চরসের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই এলাকাতেই রেললাইনের জঙ্গলের ধারে অভিযুক্ত চারজনের মদ-গাঁজার ঠেক বসাত বলে অভিযোগ। জেরায় পুলিশের কাছে তা স্বীকারও করেছে বলে সূত্রের খবর। আর এদিন এখানে এসেই কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বারুইপুরে গিয়ে মৃত নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার এবং গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁদের যা বলার এবং সাহায্য করার তা তিনি করেছেন। কিন্তু এই নিষ্ঠুর, নির্মম কাজ সমূলে উৎপাটিত করতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ‘খুনি-ধর্ষকরা ভয়ে থাকুক। বাকিরা নির্ভয়ে থাকুন এবং দোকানপাট খুলুন। আগামী দু’সপ্তাহ রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদ, গাঁজা, চরস-সহ সকল নেশার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে পুলিশকে।’
এদিন সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করে রাজ্যজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে রাজ্যের ডিজিপি-কে কড়া নির্দেশ দেন তিনি। রাজ্যবাসীর কাছেও সহযোগিতা চান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আগামী ২ সপ্তাহ রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এই কাজে ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের কাজে লাগানো হবে। রাজ্যবাসীর কাছে আমার আহ্বান, বেআইনি মদ, গাঁজার ঠেকের খবর পেলে প্রশাসনকে জানান। অনেকেই ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পুলিশকে বলেছি মাইকিং করে সব স্বাভাবিক করে দিতে। সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। যারা খুন, ধর্ষণ করেছে কিংবা রেললাইন ভাঙতে গিয়েছিল, তারা ভয়ে থাকুক। তাদের আইনি পথে শিক্ষা দেওয়া আমাদের কাজ।’
এই গণধর্ষণ-খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মানুষজন শিউরে উঠেছিল। এভাবে কোনও নাবালিকাকে হত্যা করা যায় তা সকলের কল্পনার অতীত। আর তাই বারুইপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রেল, বাসে অভিযান চালিয়ে প্রত্যেকদিনই মাদক উদ্ধার করছে বেঙ্গল এসটিএফ। কিন্তু গ্রামীণ এলাকাতেও এসবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে। বেআইনি মাদকচক্রকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা দরকার। যাতে সামাজিক দূষণ থেকে পরিবেশকে বাঁচানো যায়। বারুইপুরের ঘটনায় কার্য ও কারণ আছে। আমি মনে করি, বারুইপুরের অপরাধের পিছনে বেআইনি মদের ঠেক, বেআইনি গাঁজা, চরস, মাদক হলো একটা বড় কারণ। তার জন্য বিশেষ অভিযান চলবে।’
Leave a Comment