---Advertisement---

হত্যার আশঙ্কা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গণ-আত্মসমর্পণের ঘোষণা

By Suman Debnath

July 12, 2026 1:30 AM

হত্যার আশঙ্কা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গণ-আত্মসমর্পণের ঘোষণা

---Advertisement---


ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা: হত্যার আশঙ্কা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গণ-আত্মসমর্পণের ঘোষণা


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় এবং দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটালেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে নির্বাসিত থাকা ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের দিকে তিনি এবং তার দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা একযোগে দেশে ফিরে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করছেন।

তবে দেশে ফিরলে বর্তমান প্রশাসনের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন, এমনকি তাকে হত্যাও করা হতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন “আমি দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর ভয় করে লাভ নেই, আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা দেশে ভয়ংকর দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুই কপালে থাকে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের দেশের মাটিতে আসুক—যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর গত বছরের (২০২৫ সালের) নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে ১,৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে তাকে অনুপস্থিতিতেই (In absentia) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:  নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই দেশে গণভোট হয়েছে রংপুরে ১১ দলীয় বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াত আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবেন। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে পুরনো ও বড় রাজনৈতিক দলের প্রতি বর্তমান বিচারব্যবস্থা কেমন আচরণ করে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে। তিনি বলেন, “বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক, তা আমি জনগণের সামনে প্রমাণ করতে চাই।”

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কবে দেশে পা রাখবেন, কোন রুট ব্যবহার করবেন কিংবা কোন আদালতে প্রথম আত্মসমর্পণ করবেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করেননি।

বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “ঢাকা কর্তৃপক্ষ আমাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিয়ে আমাকে প্রত্যর্পণ (Extradite) করার অনুরোধ জানাচ্ছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমার জন্য দিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টি করার দরকার নেই, আমি নিজেই যাব।”

তিনি দাবি করেন, এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তিনি ভারত বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার গোপন আলোচনা বা লিয়াজোঁ করেননি। তার ভাষায়, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার কিংবা ন্যায়বিচার নিয়ে কোনো গোপন বা অন্ধকার কক্ষে আলোচনা হতে পারে না।”

দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার তীব্র সমালোচনা করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, “আমাকে হয়তো ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, আমি হয়তো ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দলকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? আমরা যদি দীর্ঘ ২০ বছরের শাসনে খারাপ কাজ করে থাকি, তবে সেই রায় দেওয়ার একক অধিকার জনগণের, কোনো অন্তর্বর্তী বা অন্য কোনো সরকারের নয়। সেই বিচার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।”

আরও পড়ুন:  গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

তিনি আরও জানান, দিল্লিতে বসেই তিনি আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে তিনি ওয়ান-টু-ওয়ান এবং গ্রুপভিত্তিক অনলাইন ভিডিও বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।

আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের অভয় দিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রায় সব স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কোণঠাসা করা হয়েছে। আমি সবাইকে বার্তা দিয়েছি—এবার আমি নিজে আগে দেশে ফিরছি। এরপর আপনারা সবাই একে একে রাজপথে নেমে আসবেন। আমরা সবাই একসঙ্গে আইনি লড়াই লড়ব।”

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, কারাগারে যাওয়ার কোনো ভয় তার নেই। এর আগেও ১৯৮১ সালে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তাকে বহুবার গৃহবন্দি ও কারাবরণ করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশে যখন এক ধরনের স্থায়িত্ব ফিরছিল, তখন বছরের শেষভাগে শেখ হাসিনার এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ও আইনি চ্যালেঞ্জ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তাপ ও মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment