মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আবেগঘন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘোষণা করা হয়েছে ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস।
মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কর্ণসুবর্ণে (Karnasubarna) ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্বজনহারাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। পরে সভামঞ্চ থেকে আবেগঘন বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চোখের জল ছাড়া আমার ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার কিছু নেই। তবে আমার পক্ষে যা সম্ভব, আমি করব।” একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্ণসুবর্ণে পৌঁছে কোনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে সরাসরি দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
এরপর সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ছোট ছোট শিশু-সহ নিরীহ মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, অর্থ দিয়ে কোনওভাবেই এই ক্ষতি পূরণ করা যায় না। তবুও সরকারের দায়িত্ব হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। সেই কারণেই প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে রেল এবং পুলিশের রিপোর্টে গেটম্যানের গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে। যদি তদন্তে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি আরও কিছু দাবি জানিয়েছেন। সেগুলিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভা শেষে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে চিকিৎসাধীনদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই কর্ণসুবর্ণে একটি রেলগেট খোলা থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির ট্রেন একটি পুলকার এবং একটি সাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এই দুর্ঘটনায় চার শিশু-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও কয়েকজন। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, দায়িত্বে থাকা গেটম্যান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রেলগেট বন্ধ করতে ব্যর্থ হন। ওই দিনই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং পরে বহরমপুর (Berhampore) থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলছে।
Leave a Comment