---Advertisement---

মিশন-মোডে সীমান্তে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, মালদহের ২৯ গ্রামে বিশেষ উদ্যোগ

By Suman Debnath

July 18, 2026 12:40 PM

মিশন-মোডে সীমান্তে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, মালদহের ২৯ গ্রামে বিশেষ উদ্যোগ

---Advertisement---


ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিবিটি, ডিজিটাল পেমেন্ট ও জীবিকা প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী পরিবারগুলিকে আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এবার তারা জোরদার অভিযান শুরু করল। সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে মিশন-মোডে কাজ শুরু করেছে মালদহ জেলা প্রশাসন। তাদের লক্ষ্য, প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি), সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং জীবিকাভিত্তিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা। ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম ২.০-এর আওতায় জেলার ২৯টি সীমান্তবর্তী গ্রামকে চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা হাবিবপুর, বামনগোলা, পুরাতন মালদহ, ইংরেজবাজার ও কালিয়াচক-৩ ব্লকে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আউটরিচ ক্যাম্প। এই শিবিরগুলিতে নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা এবং আধার সংযুক্তিকরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এটি এককালীন উদ্যোগ নয়। সমস্ত যোগ্য পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি চলবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সরকারের আমলে মালদহে ১.২ লক্ষেরও বেশি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশই সীমান্তবর্তী ব্লকগুলিতে। ফলে ডিবিটি-নির্ভর সরকারি প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্যান্য আর্থিক পরিষেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন:  জনগণনা এড়ালে জরিমানা এমনকি জেলও হতে পারে, স্কুলগুলিকে কড়া বার্তা পুরসভার

অন্যদিকে, ‘আমার গ্রাম আমার কল্পনা’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনিক আধিকারিকরা গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন। সেই মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি গ্রামের জন্য পৃথক ভিলেজ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চিহ্নিত করা হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টবিহীন পরিবার, অসম্পূর্ণ কেওয়াইসি, আধার সংযুক্তির সমস্যা এবং সরকারি প্রকল্পের বাইরে থাকা উপভোক্তাদের।

সীমান্তবর্তী এলাকায় ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ কল্যাণ শিবির আয়োজন করে পেনশন, বৃত্তি, সামাজিক সুরক্ষা ও জীবিকা প্রকল্পের সুবিধাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের এসব প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি জীবিকার উন্নয়নেও জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

‘আমার মালদহ’ উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার আম, রেশম ও মাখানা-সহ বিভিন্ন স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, ব্র্যান্ডিং এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক, এফপিও ও সমবায় সমিতিগুলিকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করায় নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমছে। সেই সঙ্গে স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনের সুযোগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন:  ২১ জুলাইয়ের সকালে বদলে গেল কলকাতার ছবি! শিয়ালদহে নেই তৃণমূলের চেনা ভিড়, বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ

প্রশাসনের দাবি, হাবিবপুরের আলোকিনী ও মালকস-এর সঙ্গে যুক্ত কৃষকেরা এখন ২১ দিনের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থপ্রদান পাচ্ছেন। পাশাপাশি ‘আমার মালদহ’ আউটলেট চালু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এফপিওগুলির গড় বিক্রি ১৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সমস্ত অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি পরিষেবা, নিরাপদ জীবিকা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে প্রতিটি পরিবারকে কার্যকরভাবে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও সুরক্ষিত সীমান্তবর্তী গ্রাম গড়ে তোলার পথে আরও একধাপ এগোল মালদহ।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment