পুজোর শহরে প্রাণহানি! উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে ভিড়ের চাপে গেটের একাংশ ভেঙে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আহতদের দেখে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর এই তথ্য জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের মধ্যে ৫ বছরের এক শিশুও রয়েছে বলে খবর। আহত অবস্থায় ১৫ জন চিকিৎসাধীন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। আতঙ্কিত গোটা শহর। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কলকাতার প্রচুর নামী পুজোমণ্ডপের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পুলিশ আমজনতার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শনিবার সপ্তমীর দুপুর থেকেই আবহাওয়া কিছুটা ভিলেন হয়ে উঠেছিল। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তুমুল বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ছাতা মাথায় প্যান্ডেল হপিং চলছিল উৎসবপ্রেমী মানুষজনের। বিকেলের দিকে খানিক বিরামের পর সন্ধ্যায় ফের বৃষ্টি শুরু হয়। কিন্তু উৎসবে গা ভাসানোর উন্মাদনায় ভাটা পড়েনি। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় করেন জনতা। এমন সময়েই বিপর্যয় নেমে এল চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু পরেই ভিড়ের চাপে গেটের একাংশ ভেঙে যায়। পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়েই পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। রাতের দিকে জানা যায়, ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ঘটনা। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং হবে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়ই হবে। আমরা পীড়িত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াচ্ছি। চোরবাগানে পুজো বন্ধ করা হয়েছে। প্রেমিসেসকে ফরেন্সিক এবং ফায়ার ব্রিগেডের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের আগে বলে দেওয়া ঠিক নয়। আমি ৯টা থেকে আছি মেডিক্যাল কলেজে। ট্রিটমেন্ট করাচ্ছি। পুরো টিম আছি আমরা। আমরা কাজ করছি। কেউ বাড়িতে বসে নেই। স্পটে যে পুলিশের আধিকারিক ছিলেন, তিনি জানিয়েছেন, পুজো কমিটি মাইকে একটা ঘোষণা করার পরই লোকজন হুড়োহুড়ি শুরু করে। তার ফলেই এই ঘটনা ঘটে। মৃতদের দুই পরিবারের সঙ্গে দেখা করলাম। তারা বলল, কোনও প্রাইভেট সিকিওরিটি ছিল। সেই বাঁশি শুনে সবাই ছোটাছুটি, হুড়োহুড়ি করেছে। যন্ত্রণাদায়ক ঘটনা। শোখ জানানোর ভাষা নেই। যা করার করছি আমরা। নিশ্চিন্তে থাকুন আপনারা। এটা তো দুর্ঘটনাই। তার জন্য যারা দায়ী, প্রাথমিক ভাবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ, প্রাইভেট সিকিওরিটির লোকজন এবং ডিউটিতে থাকা সকলকে থানায় ডিটেন করা হয়েছে। আমি বলছি ১৭ জন মৃত। আহত ১৫ জন। এই সরকার ওই সরকার নয়। গতবার দার্জিলিংয়ে হয়েছিল। আমাদের তফাত আছে। ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু আমরা যা করার করব।”
আজই শহরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। চোরবাগানের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন। রবিবার দ্বিতীয় সপ্তমীতে দিনভর একাধিক কর্মসূচি ছিল শাহর। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, এই ঘটনার জেরে কলকাতার বেশ কয়েকটি নামী পুজোমণ্ডপ আপাতত বন্ধ। চেতলা অগ্রণী, আলিপুর সর্বজনীন, অ্যালেন পার্ক, ত্রিধারা সম্মিলনী, টালা প্রত্যয়ের মতো মণ্ডপে আপাতত প্রবেশ নিষেধ।
Leave a Comment