রেজিনগরে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে শাখারভ, ভোটের ময়দানে ফের রামমন্দিরের পাল্টা রাজনীতি

By Suman Debnath

September 15, 2026 3:25 PM

রেজিনগরে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে শাখারভ, ভোটের ময়দানে ফের রামমন্দিরের পাল্টা রাজনীতি


রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা হতেই ফের সামনে এল রামমন্দিরের পাল্টা রাজনীতির পুরনো সমীকরণ। মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পরীক্ষিত সংগঠক শাখারভ সরকারকেই ভরসা করল গেরুয়া শিবির। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের সময় হুমায়ুন যখন বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন, তখন তার পাল্টা বহরমপুরে রামমন্দিরের ভূমিপুজো করে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিলেন শাখারভ। সেই শাখারভকেই এবার হুমায়ুনের ছেড়ে যাওয়া রেজিনগর আসন ছিনিয়ে আনার দায়িত্ব দিল বিজেপি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। নন্দীগ্রামে নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছে দল। অন্যদিকে রেজিনগরে রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের নাম প্রত্যাশিতই ছিল বলে দলীয় সূত্রে খবর। বুধবার তিনি মনোনয়ন জমা দেবেন।

মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শাখারভ। বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। পরে বিজেপিতে যোগ দেন। রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার আগে দীর্ঘদিন বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে সংগঠন সামলেছেন। জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত শক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেই দাবি দলীয় নেতৃত্বের। এবার সেই সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে হুমায়ুনের ঘাঁটিতে জয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্য বিজেপির।

আরও পড়ুন:  ধর্মতলায় পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহে গুন্ডাদমন আইন, ‘এমন ব্যবস্থা করব, ৭ পুরুষ মনে রাখবে’, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত চমক দিয়েই নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বাঁশি প্রতীকে লড়ে দুই আসনেই জেতেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী পরে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেন। সেই কারণেই ৬ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন।

নির্বাচনের আগে রামমন্দির বনাম বাবরি মসজিদ ইস্যুর পুরনো রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন করে আলোচনায়। বিধানসভা ভোটের সময় হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার পাল্টা বহরমপুরে রামমন্দিরের ভূমিপুজো করেছিলেন শাখারভ। এবার সেই শাখারভই সরাসরি হুমায়ুনের ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপির মুখ। ফলে উন্নয়ন, সংগঠন ও ধর্মীয় মেরুকরণ—তিনটি ইস্যুকেই সামনে রেখে লড়াই জমাতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

প্রার্থী হওয়ার পর শাখারভ বলেন, ‘‘বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলাম। বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। প্রার্থী হওয়ার জন্য কখনও কারও কাছে দরবার করিনি। দল যে দায়িত্ব দেবে, নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।’’

আরও পড়ুন:  কলকাতায় আসছে ওয়াটার ট্যাক্সি! সম্ভাব্য রুট জানালেন পরিবহণমন্ত্রী, পুজোর আগেই ৫০০ নতুন সরকারি বাসের ঘোষণা

তাঁর দাবি, রেজিনগরের লড়াই ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক নির্বাচন নয়। উন্নয়নই হবে তাঁর প্রধান ইস্যু। ভালো স্কুল-কলেজ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, যাতায়াতের উন্নতি, ভাগীরথীর উপর স্থায়ী সেতু এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন—এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই প্রচারে নামবেন তিনি।

শাখারভকে প্রার্থী করে উচ্ছ্বসিত জেলা বিজেপিও। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজনের দাবি, দীর্ঘদিন জেলা সভাপতি হিসেবে সংগঠনকে নেতৃত্ব দেওয়া শাখারভকে জেতাতে ইতিমধ্যেই কর্মীরা প্রচারে নেমে পড়েছেন। রেজিনগরে বিজেপি জিতবে বলেও আত্মবিশ্বাসী তিনি।

 

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment