ধর্মতলায় বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে কড়া অবস্থান সরকারের। ৭০ জনকে চিহ্নিত করার দাবি করে গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।
কলকাতা: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party – CJP)-র সমর্থনে কলকাতার ধর্মতলায় হওয়া বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। আন্দোলনের নামে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে এবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
শনিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের আড়ালে ধর্মতলায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কোনওভাবেই স্বাভাবিক আন্দোলনের পর্যায়ে পড়ে না। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা হয়েছে।
এই ঘটনায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা রুজু করা হবে। কড়া ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা “সাত পুরুষ মনে রাখবে”।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্তে ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ ছাত্র নন এবং কেউ ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যও নন। আন্দোলনের ভিড়ে বহিরাগতরা ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে বলেই সরকারের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারকে সামনে রেখে যদি পুলিশ, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালানো হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই কারণেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনি ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ধর্মতলার এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সরকারের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।
Leave a Comment