নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এর ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-কে চিঠি লিখে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর ছররা গুলি চালানোর অনুমতি আদৌ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছিলেন কি না। পাশাপাশি সাধারণ পোশাকে বিক্ষোভকারীদের মারধরের অভিযোগ নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।
রবিবার সকালে নিজের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ওই চিঠি প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। চিঠির তারিখ ২৫ জুলাই হলেও, সেটি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের আগে না পরে পাঠানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে চিঠিতে যন্তর মন্তরের আন্দোলন এবং ২০ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। তাঁদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই অভিযানে বহু পড়ুয়া আহত হন এবং কিছু আন্দোলনকারী ছররা গুলির আঘাতও পান।
চিঠিতে রাহুল দুটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন। প্রথমত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অমিত শাহ কি ছাত্রদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন? যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই নির্দেশ কে দিয়েছিল? দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের সময় সাধারণ পোশাকে যাঁদের বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে দেখা গিয়েছিল, তাঁরা কারা? তাঁরা কি পুলিশ সদস্য, নাকি অন্য কোনও বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ (Chalo Sansad)’ কর্মসূচির সময়ও একই অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে এক আহত আন্দোলনকারীকে নিয়ে এসে দাবি করেন, তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে ছররা গুলির আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) আগেই জানিয়েছিল, তারা কোনও ছররা গুলি ব্যবহার করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)-কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছিল।
চিঠিতে রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় মহিলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের দায়িত্ব ছিল প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বক্তব্য শোনা। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে অমিত শাহ বলেছিলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party – BJP)-র কাছে কোনও মন্ত্রিত্ব বা পদ নয়, দেশ, যুবসমাজ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সর্বাগ্রে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনকে কিছু ‘দেশবিরোধী শক্তি’ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করেছে।
এই আবহেই রাহুল গান্ধীর চিঠি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। যন্তর মন্তরের আন্দোলন, পুলিশি পদক্ষেপ এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত যে আরও তীব্র হতে পারে, তা স্পষ্ট।
Leave a Comment