বারুইপুর (Baruipur)-এর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের (Prabhas Mondal) পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তখন সেই ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে সরব হলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। বীরভূম (Birbhum)-এর তারাপীঠ (Tarapith)-এ পুজো দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্ত যদি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা নেবেই।
সুকান্ত মজুমদারের কথায়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল এবং পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। সেই প্রসঙ্গেই তিনি মন্তব্য করেন, “গুলি ছুড়লে তো আর পুলিশ জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না।” তাঁর মতে, আত্মরক্ষার পরিস্থিতিতে পুলিশের পাল্টা গুলি চালানো অস্বাভাবিক নয়।
পুলিশ সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাস মণ্ডলকে সূর্যপুর (Suryapur) এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। সেই সময় সে পুলিশের দিকে গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে গুরুতর জখম হয় প্রভাস। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এনকাউন্টার প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র ভূমিকাকেও প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
শুধু এনকাউন্টার নয়, ঘটনার পর বারুইপুরে ছড়িয়ে পড়া অশান্তি নিয়েও বিরোধীদের নিশানা করেন সুকান্ত। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার ক্ষেত্রে সিপিএম (CPM)-এর ভূমিকা ছিল। তিনি দাবি করেন, উস্কানির জেরে রেললাইন অবরোধ, ভাঙচুর এবং এক ব্যক্তিকে গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১১ বছরের এক কিশোরী। পরদিন একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গণধোলাই দিলে তাঁর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি দেহ রেখে বিক্ষোভ ও অবরোধের জেরে ব্যাহত হয় রেল পরিষেবাও। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার (Ananda Sardar)-সহ প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার (Dibakar Sardar) এবং কবীর মোল্লা (Kabir Molla)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার সময়ই প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা ঘিরে এখন রাজনৈতিক তরজা এবং তদন্ত—দুই-ই সমানভাবে চলছে।
Leave a Comment