---Advertisement---

ইজরায়েলের হামলায় নিহত মিশরীয় সমাজকর্মী আল-ওয়াহিদি

By Suman Debnath

July 10, 2026 4:40 PM

ইজরায়েলের হামলায় নিহত মিশরীয় সমাজকর্মী আল-ওয়াহিদি

---Advertisement---





যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছিলেন মিশরীয় সমাজকর্মী আল-ওয়াহিদি। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। আর্জেন্টিনা ও মিশরের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ঘটনাটি ঘিরে গাজা ও মিশরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গাজার মিশরীয় ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ৫৭ বছর বয়সের আল-ওয়াহিদি যুদ্ধের শুরু থেকেই বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ধ্বংসস্তূপ সরানো, ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, আশ্রয় শিবির তৈরি করা থেকে শুরু করে খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী বিতরণ – সব ক্ষেত্রেই তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। সম্প্রতি গাজার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি, যাতে যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও শিশু ও পরিবারগুলি কিছুটা স্বস্তির মুহূর্ত খুঁজে পায়। 

মঙ্গলবার গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় বিশ্বকাপ দেখার আয়োজনের উদ্দেশে ট্যাক্সিতে করে যাওয়ার সময় সাবরা এলাকায় তাঁর গাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হাসপাতালে চিকিৎসকদের দাবি, ঘটনায় আল-ওয়াহিদির পাশাপাশি ৮ ও ১০ বছরের ২ পথশিশু এবং আরও ১ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। চালক প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। আল-ওয়াহিদি চেয়েছিলেন,  শিশুরাও খেলা দেখুক। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই ইজরায়েলের হানায় মৃত্যু হয় তাঁর।

মিশর সরকার এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোনও সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকা এক সমাজকর্মীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও ইজরায়েল সেনার দাবি, হামাসের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

আল ওয়াহিদির মৃত্যুর পর গাজা জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। সহকর্মী ও স্থানীয়দের কথায়, তিনি শুধু একজন সমাজকর্মী ছিলেন না, যুদ্ধের অন্ধকারে অসহায় মানুষের কাছে ছিলেন আশা ও ভরসার আরেক নাম।

মিশরের এক সংস্থার মতে, আল-ওয়াহিদি ছিলেন সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, যিনি নানা বিবাদ মীমাংসা, অভাবীদের আহার জোগান দেওয়া এবং বিশ্বকাপ ম্যাচের গণপ্রদর্শনীর আয়োজন করে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজ করতেন।  বিশাল পর্দায় ম্যাচ দেখে হাজার হাজার ফুটবল ভক্ত আনন্দে ভেসেছেন। তাঁরা মিশর দলকে সমর্থন করেছেন, যারা আর্জেন্টিনার কাছে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার আগে পর্যন্ত দারুণ খেলে।

তার ছেলে ফাওয়াজ রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে ফোনে বলেন, ‘আমার বাবা মানুষের জন্য, বাস্তুচ্যুতদের জন্য, আমাদের জন্য এবং গাজায় দুর্ভোগে থাকা প্রত্যেকের জন্য কিছু বিনোদনের ব্যবস্থা করতে কঠোর পরিশ্রম করতেন; তিনি তাদের তাঁবু পৌঁছে দিতেন। বিধ্বস্তদের আশ্রয়স্থলের কাছে বিভিন্ন জিনিস পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতেন।’

গাজা ভুখণ্ডে ২০২৩ সাল থেকে ইজরায়েল – হামাস সংঘর্ষ চলছে। দাবি, গত ৩ বছরে ওই সংঘর্ষে সে দেশের হাজার হাজার ক্রীড়াবিদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি প্যালেস্তাইন ফুটবল সংস্থার। সপ্তাহখানেক আগে প্রাণ হারিয়েছেন প্যালেস্টাইনের ফুটবলার সালিম আল-আশকার। ৩২ বছর বয়সের ওই গোলরক্ষক মাত্র মাস পাঁচেক আগে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। যুদ্ধের সময় রান্নার গ্যাসের খোঁজে বাইরে বেরিয়েছিলেন। আর তাঁর ঘরে ফেরা হয়নি। ২০২৩-এর অক্টোবরে গাজায় ইজরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৭৩ হাজার ১১৮ জনেরও বেশি প্যালেস্তাইনি নিহত হয়েছেন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment