ইডির প্রশ্নের মুখোমুখি ইন্দ্রনীল সেন, সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে অপেক্ষারত পুলিশ

By Suman Debnath

October 28, 2026 5:05 PM

ইডির প্রশ্নের মুখোমুখি ইন্দ্রনীল সেন, সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে অপেক্ষারত পুলিশ


ব্যাপক চাপে পড়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ইডির সমনে সিজিও কমপ্লেক্সে বুধবার হাজিরা দিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর বাইরে অপেক্ষারত কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং বিধাননগর কমিশনারেটের অফিসাররা। তাহলে কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ইন্দ্রনীল? এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীর কাছে কোনও রক্ষাকবচ নেই। নথি নিয়ে এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন তিনি। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেটার তদন্ত করছে ইডি।

এদিকে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আছে। আগেও একাধিকবার ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তল্লাশি চালানো হয়েছিল তাঁর নানা ঠিকানায়। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো মিটতেই আবার তলব করা হল চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ককে। বুধবার তিনি হাজিরা দেন। বউবাজার থানায় ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ‘মাস আর্ট’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং ভিআইপি পাস বিক্রি ও কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে। ওই অভিযোগের তদন্ত করছে লালবাজারে গোয়েন্দা শাখা। আর পাস বিক্রি ঘিরে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে মামলার তদন্ত শুরু করেছে ইডি।

আরও পড়ুন:  ‘দেওয়াল লিখন গণতান্ত্রিক দেশে সবাই করতে পারে’, যাদবপুর নিয়ে সাফ বার্তা দিলীপের

অন্যদিকে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পরে ইডি তদন্ত শুরু করে। প্রাক্তন মন্ত্রী হাজিরা দেওয়ার পরই সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন হয়। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররা বাইরে অপেক্ষা করছেন। কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ চাইলে সেটা খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল এই তিন বছরে এক লাখেরও উপর প্রিভিউ কার্ড বিক্রি করেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা। বিক্রি বেড়েছিল দ্বিগুণ। ডোনার কার্ড বিক্রি হয়েছিল বিপুল টাকায়। ওই বিপুল ৬০ কোটি টাকা কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল এবং কারা কারা পেয়েছিল সেটা নিয়েই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন:  আজ তারকেশ্বরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

তাছাড়া ইন্দ্রনীল নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং নিজের সংস্থাকে ইউনেস্কোর অংশীদার বলে দাবি করে প্রচার করেন এবং সব রকমের পাসের জন‌্য রেট চার্ট করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাস কেনার সময় ইউপিআই বা অনলাইনে টাকা পাঠাতে হতো। তার পরিবর্তে ক্রেতাদের কিউআর কোড পাঠানো হতো, সেগুলি স্ক‌্যান করে প্রবেশ করা যেত মণ্ডপগুলিতে। মণ্ডপ ছাড়াও বনেদি বাড়ির পুজো বা আলিপুর মিউজিয়ামের জন‌্য পৃথক পাস বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইন্দ্রনীলের মামলায় নাম এসেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment