২৫ জুলাই বিধানসভায় পেশ ক্যাগ রিপোর্ট, দুর্নীতিতে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত শুভেন্দুর

By Suman Debnath

July 22, 2026 10:05 PM

২৫ জুলাই বিধানসভায় পেশ ক্যাগ রিপোর্ট, দুর্নীতিতে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত শুভেন্দুর


রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। ভোটপ্রচারে এসে এমনই বার্তা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার দুর্নীতি রুখতে বিধানসভা থেকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৫ জুলাই অর্থাৎ শনিবার বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করা হবে বলে এদিন জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘যেখানে যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা যত বড় নেতাই হোন না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে।‘

বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৫ জুলাই ক্যাগ রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর পরবর্তী অধিবেশনে সেই রিপোর্ট এবং তাতে থাকা সুপারিশগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাঁর কথায়, যেখানে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, ক্যাগ তা তুলে ধরবে।

২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর ত্রাণ বণ্টন সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমফানের সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দফায় মোট ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আদালতের নির্দেশে সিএজি তদন্ত করে। কিন্তু সেই তদন্ত রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। রিপোর্টে যাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।‘

আরও পড়ুন:  ‘পদ্মফুলটা রাখেননি তো আবার?’ তৃণমূলের প্রতীক বিতর্কে মমতাকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আমফান নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিষেকের ডায়মন্ড হারবারেই আমফান দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ক্যাগ রিপোর্টে তার উল্লেখ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও সুপারিশ রয়েছে কি না তা, স্পষ্ট নয়। তবে এই রিপোর্টে প্রকাশ করে শুভেন্দু ঘুরপথে সেই অভিষেককেই নিশানা করতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অভিষেকের বিরুদ্ধে বিবিধ মামলায় নানা এফআইআর রুজু করা হয়েছে। কিছু কিছু মামলা আদালতে বিচারাধীন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি(ইউসিসি) সংক্রান্ত কমিটি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই, তাঁদের কাজ শেষ হলেই রিপোর্ট জমা পড়বে। এরপর রাজ্যপালের মাধ্যমে বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকার সুপারিশ করা হবে, যাতে আমফান সংক্রান্ত বিশেষ ক্যাগ রিপোর্ট-সহ অন্যান্য ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা যায়। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যারা সম্প্রতি বড় বড় বক্তব্য রেখেছেন, এবার তাঁদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ্যে আনার সময় এসেছে।

রাজ্যের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, শিশু সুরক্ষা কমিশন, এসসি, এসটি, ওবিসি, সংখ্যালঘু কমিশন এবং তথ্য কমিশন-সহ একাধিক সাংবিধানিক সংস্থাকে কার্যত অচল করে রেখেছিল। তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন বিচারপতি তথা পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অশোক গাঙ্গুলীর উপর কীভাবে আক্রমণ ও হেনস্থা হয়েছিল, তা রাজ্যের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন।

আরও পড়ুন:  বিদেশে চোখের চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক, ৩ আগস্ট শুনানির সম্ভাবনা

একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্তাদেরও আগের সরকারের আমলে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে এই সমস্ত সাংবিধানিক সংস্থা আবার পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করবে। অভিযোগ গ্রহণ এবং তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও তারা পালন করবে।

এদিকে, ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কালীঘাট কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, ক্যাগ রিপোর্টে যদি বিজেপি শিবিরের কোনও নেতার নাম উঠে আসে, সেক্ষেত্রেও কি সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? তিনি আরও বলেন, তারাতলা কাণ্ডে এক বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ নথি প্রকাশ্যে আনার দাবি করা হলেও, পরে সেই বিষয়ে আর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতেই যে বিজেপি সরকার এগোতে চাইছে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক সিদ্ধান্তে তার ইঙ্গিত মিলেছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের একাধিক ছোট-বড় নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবার ২৫ জুলাই ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশের পর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment