‘আর চুপ থাকবেন না’, রামলীলা ময়দানে সভার আগে সমাজের সব স্তরের মানুষকে আহ্বান মমতার

By Suman Debnath

October 29, 2026 7:20 PM

‘আর চুপ থাকবেন না’, রামলীলা ময়দানে সভার আগে সমাজের সব স্তরের মানুষকে আহ্বান মমতার


হাতে আর দু’দিন। তারপরই ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদ সভা রামলীলা ময়দানে। এখন বিরোধী দলগুলির নেতা-নেত্রীরা আওয়াজ তুলেছেন, ভোট গিয়েছে চুরি। ভোট চুরি ও এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনৈতিক কাজ হয়েছে বলে একাধিক তথ্য সামনে চলে এসেছে। যা নিয়ে বিরোধীরা এখন মাঠে নেমে পড়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুবসমাজ। ফলে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঘরে-বাইরে প্রবল আন্দোলন শুরু হয়েছে। একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই আবহে আগামী রবিবার, ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রতিবাদ সভা করবেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা। সেখানে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বক্তা হিসেবেও নাম রয়েছে তাঁর। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পড়ুয়া, মহিলা এবং সমাজের বিশিষ্টদের আহ্বান জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এদিকে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। সেখানে বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ব্যাপক আন্দোলন করছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এককাট্টা হয়েছে বিরোধীরা। এবার রাজধানী থেকে আওয়াজ তুলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে নয়াদিল্লি যাবেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও পর্যন্ত তেমনই খবর মিলেছে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন, ‘আর চুপ থাকবেন না। ভোটাধিকারই যখন লুটের মুখে, তখন তা নিয়ে চুপ থেকে লাভ নেই। বরং আসুন, গণতন্ত্র আর সংবিধান বাঁচাতে হাতে হাত ধরে দাঁড়াই সকলে।’

আরও পড়ুন:  দুর্গাপুজোর প্রাক্কালেই দাম বাড়তে চলেছে মদের, সুরাপ্রেমীদের পকেটে চাপ পড়বে কবে?

 

অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এই নিয়ে আগেও দু’বার প্রতিবাদ করেছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। পথে নেমে পুলিশের লাঠিও খেতে হয়েছে রাহুল গান্ধী, নেহা বোরাদের। কিন্তু প্রতিবাদ তাতেও থামছে না। আগামী ১ নভেম্বর আবার নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে একই ইস্যুতে নামছে বিরোধী দলগুলি। এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সব ঠিক থাকলে তারাও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেবে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘১ নভেম্বর, ইন্ডিয়া রামলীলা ময়দানে প্রতিবাদ জানাবে। এটা ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়াই। প্রত্যেক ভারতীয়র এই অধিকার আছে। বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যে ভোট চুরির জবাব চায় জনতা, নিরুত্তর থাকলে চলবে না। আমি প্রত্যেক পড়ুয়া, যুব, মহিলা ও সমাজের বিশিষ্টদের কাছে আবেদন জানাই, আপনারাও এই কর্মসূচিতে সামিল হোন। আসুন, সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা গণতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচাই।’

আরও পড়ুন:  একুশে জুলাই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে কালীঘাট তৃণমূল, সমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

তাছাড়া তৃণমূল দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর। প্রায় ৬০ জন বিধায়ক নিয়ে পৃথক শিবির গড়ে তুলেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এখন ওই বিদ্রোহী শিবির ছেড়ে একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কালীঘাটে ফিরেছেন কাশেম সিদ্দিকী, তৌসিফউর রহমান, আব্দুল মাতিন। হামিদুর রহমান, কাজল শেখ, মিনহাজুল আফরিন আজাদ-সহ বেশ কয়েকজন কালীঘাটের পথে পা বাড়িয়েছেন। রথীন ঘোষ থেকে শুরু করে শিউলি সাহা এখন ফিরে আসতে চাইছেন। সুতরাং পরিস্থিতি দ্রুত বদল হতে পারে বলে অনেকের মত।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment