---Advertisement---

২১ জুলাইয়ে বদলে গেল ধর্মতলার চেনা ছবি! ফাঁকা ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বর, সচল রাস্তা-খোলা দোকানপাট

By Suman Debnath

July 21, 2026 3:45 PM

২১ জুলাইয়ে বদলে গেল ধর্মতলার চেনা ছবি! ফাঁকা ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বর, সচল রাস্তা-খোলা দোকানপাট

---Advertisement---


বছরের পর বছর ২১ জুলাই মানেই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস (Victoria House) চত্বরজুড়ে উপচে পড়া জনসমাগম, মিছিল, স্লোগান আর রাজনৈতিক আবহ। কিন্তু এ বছর সেই বহু পরিচিত দৃশ্য যেন অতীত। রাজনৈতিক পালাবদল এবং কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকা ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। যান চলাচল সচল, দোকানপাট খোলা এবং প্রতিদিনের মতোই অফিসপাড়ার ব্যস্ততা—এমন ছবিই ধরা পড়ল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে।

অতীতে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামত ধর্মতলায়। সবুজ-সাদা পোশাক, দলীয় পতাকা, ব্যাজ, কাট-আউট এবং স্লোগানে মুখর হয়ে উঠত গোটা এলাকা। ফুটপাতের দোকান, চায়ের স্টল, খাবারের হোটেল—সব জায়গাতেই থাকত বাড়তি ভিড়। কিন্তু এ বছর সেই চেনা পরিবেশের কোনও ছাপ দেখা গেল না।

এবার মূল রাজনৈতিক কর্মসূচি ধর্মতলা থেকে সরে যাওয়ায় ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে সকাল থেকেই যানজটের চাপ ছিল না। অন্য বছরের মতো বাঁশের ব্যারিকেড, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ বা রাস্তা বন্ধের ছবিও চোখে পড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষ এবং অফিসগামীদের যাতায়াতে তেমন কোনও অসুবিধা হয়নি।

আরও পড়ুন:  কলেজ স্কোয়ারের খুঁটিপুজোয় মৌলবাদ ইস্যুতে সরব শমীক, ‘কিছু জেলা যেন বাংলাদেশ’— দাবি বিজেপি সভাপতির

প্রতি বছর নিরাপত্তাজনিত কারণে যেসব ছোট ব্যবসায়ী দোকান খুলতে পারতেন না, তাঁদের অনেকেই এ বছর স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা শুরু করেছেন। মোবাইল আনুষঙ্গিক সামগ্রীর এক দোকানদার জানান, অতীতে ২১ জুলাই মানেই দোকান বন্ধ রাখতে হতো। এবার সেই বাধা না থাকায় ব্যবসা চালানো সম্ভব হয়েছে। যদিও তিনি জানান, পরে সময় পেলে তিনি নিজেও দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাবেন।

চা-দোকান এবং খাবারের ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আগে এই দিনে অতিরিক্ত ক্রেতার ভিড় সামলাতে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হতো। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ব্যবসা স্বাভাবিক থাকলেও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যে অতিরিক্ত বিক্রি হতো, তা আর দেখা যাচ্ছে না।

একই চিত্র দেখা গিয়েছে ডেকার্স লেন (Deckers Lane)-এও। সাধারণ দিনে যেমনভাবে ভাতের হোটেল, চায়ের দোকান বা জলখাবারের স্টল খোলা থাকে, মঙ্গলবারও সেভাবেই ব্যবসা চলেছে। অতীতের মতো হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের ভিড় না থাকায় অতিরিক্ত খাবার তৈরিরও প্রয়োজন পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন:  আজ উল্টোরথ, বাড়ি ফিরবেন প্রভু জগন্নাথদেব

এ বছর ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি তিনটি পৃথক স্থানে আয়োজন করা হয়েছে। বিড়লা তারামণ্ডল (Birla Planetarium)-এর সামনে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সমাবেশ। মেয়ো রোড (Mayo Road)-এ আলাদা কর্মসূচি করছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। অন্যদিকে শহিদ মিনার (Shaheed Minar) চত্বরে কর্মসূচি রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস (West Bengal Pradesh Congress Committee)-এর।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের ফলে ধর্মতলার দীর্ঘদিনের পরিচিত আবহে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন নজর, দিনের শেষে কোন শিবিরের সমাবেশে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয় এবং সেই উপস্থিতি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কী বার্তা বহন করে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment