দিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগকে নিজেদের আন্দোলনের বড় জয় বলে দাবি করল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party-CJP)। দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ আন্দোলন মঞ্চ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) ঘোষণা করেন, সরকারের বিরুদ্ধে ভয় না পেয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তবে আন্দোলন এখনও শেষ নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। ক্ষতিপূরণ, মামলা প্রত্যাহার এবং পুলিশি ভূমিকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ-সহ বাকি দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা করেন CJP নেতৃত্ব।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই ইস্তফা প্রমাণ করে দিয়েছে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তির সামনে সরকারকেও নতি স্বীকার করতে হয়। তাঁর কথায়, মানুষ যদি ভয় না পায় এবং মাথা নত না করে, তাহলে যে কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব।
দীপকে আরও দাবি করেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, একাংশের সংবাদমাধ্যমও প্রতিদিন আন্দোলন তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সংবিধানের উপর আস্থা রেখে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না বলেই জানিয়েছেন CJP নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, NEET প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি, ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের পর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলাও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
যন্তর মন্তরের সমাবেশে NEET বিতর্কে প্রাণ হারানো পড়ুয়াদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় যাঁরা লাঠিচার্জের নির্দেশ বা তদারকি করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনস্থলের কাছে কিছু আরএসএস (RSS)-সমর্থক এসে ইচ্ছাকৃতভাবে বোতল ছুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, সেই সময় দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) ঘটনাস্থলেই উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। দীপকের কথায়, “RSS-এর কিছু গুণ্ডা এখানে এসে বোতল ছুড়ে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছে। আর দিল্লি পুলিশ পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছে। এঁদের কোনও লজ্জা-শরম নেই?” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
CJP-র পক্ষ থেকে ডিসিপি সন্দীপ লাম্বা (Sandeep Lamba), এসিপি অজয় শর্মা (Ajay Sharma) এবং সচিন শর্মা (Sachin Sharma)-র বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০ জুলাইয়ের লাঠিচার্জের ঘটনায় এই আধিকারিকদের ভূমিকার তদন্ত হওয়া উচিত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে দীপকে জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে তাঁরা প্রথম সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তবে বাকি দাবিগুলি—NEET-এ আত্মহত্যাকারী পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং পুলিশি ভূমিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা—পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। কেন্দ্র সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও আন্দোলনকারীদের।
Leave a Comment