NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে টানা আন্দোলনের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেন। তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই এল বড় সিদ্ধান্ত, প্রতিক্রিয়ায় সরগরম রাজনৈতিক মহল।
দিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) অবশেষে পদত্যাগ করলেন। নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে টানা প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party-CJP) শুরু থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া সরকারের সঙ্গে কোনও সমঝোতা বা আলোচনার প্রশ্নই নেই। শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই তাঁর ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসে।
শনিবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ইস্তফাপত্রে তিনি লেখেন, গত ১০ দিনের ঘটনাবলির জন্য তাঁর মন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। দেশের যুবসমাজই ভারতের প্রকৃত শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রের দুই শীর্ষ মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)। প্রায় দু’ঘণ্টার আলোচনাতেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী সৌরভ দাস (Sourav Das) ও আশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা কোনও আপস করবেন না।
এরপর শনিবার বিকেল পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর জন্য কেন্দ্রকে সময়সীমাও বেঁধে দেয় CJP। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, দাবি পূরণ না হলে আগামী সপ্তাহে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শনিবার সকালে আন্দোলনকারীরা ফের ঘোষণা করেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনও অর্থ নেই।
এই অবস্থাতেই দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা সামনে আসে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের চাপ, আন্দোলনের তীব্রতা এবং চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, NEET প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহির দাবিতে দিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে CJP। আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই তাঁদের প্রধান দাবি এবং সেই দাবিতে তাঁরা শেষ পর্যন্ত অনড় থাকবেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে এবং কেন্দ্র নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল, ছাত্রসমাজ এবং দেশজুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মহলের।
Leave a Comment