মুর্শিদাবাদে আটক ১০ বাংলাদেশি, পাঠানো হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারে, ডিপোর্ট কবে?

By Suman Debnath

July 25, 2026 3:15 PM

মুর্শিদাবাদে আটক ১০ বাংলাদেশি, পাঠানো হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারে, ডিপোর্ট কবে?


একইদিনে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে আটক হল ১০ বাংলাদেশি নাগরিক। সামশেরগঞ্জ, লালগোলা ও ভগবানগোলা থানার পুলিশ তাদের আটক করেছে। পুলিশ আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া ওই ১০ জন দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছিলেন। দালালের হাত ধরে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিলেন। তারপর তৈরি করেছিলেন এদেশের ভুয়ো পরিচয়পত্র। সেই পরিচয়পত্র নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথেই তাঁদের আটক করা হয়। শুক্রবার রাতে লালগোলা থানার পুলিশ বয়রা মিরপুর এলাকা থেকে ৭ বাংলাদেশিকে আটক করে। ধৃত ওই ৭ জন বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার চরগয়েশপুরের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন:  পরিবহন দপ্তরে অ্যাপ ক্যাব চালকদের বিক্ষোভের ডাক, ১১ দফা দাবিতে সরব সিটু-সমর্থিত সংগঠন

অন্যদিকে ভগবানগোলা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে এক বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার গোদাগারী থানা এলাকায়। পাশাপাশি সীমান্ত পার হওয়ার আগেই সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশের জালে ধরা পড়েছে দুই বাংলাদেশি।

লালগোলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশের চরগয়েশপুরের বাসিন্দা ওই ৭ জন মাস ছয়েক আগে লালগোলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দক্ষিণ ভারতে চলে যান। সেখানে নকল ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন তাঁরা। বাংলাদেশে ফেরার জন্য কয়েকদিন আগে তাঁরা লালগোলায় এসেছিলেন। শুক্রবার রাতে বয়রা মিরপুর দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সময়ই লালগোলা থানার পুলিশ তাঁদের আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার কথা স্বীকার করেছেন। ভগবানগোলায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকও অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:  সিঙ্গুরে কেমিক্যাল হাব তৈরির পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীকের

ভগবানগোলার এসডিপিও জানিয়েছেন, লালগোলা ও ভগবানগোলা থানা এলাকা থেকে ৮ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের লালগোলার পদ্মাভবন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। আইন প্রক্রিয়ার মেনে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ সক্রিয় হয়েছে। কাঁটাতার দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএসএফকে ৪৬৮ একর জমি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ জারি থাকায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, বিএসএফের নজর এড়িয়ে কীভাবে এত বাংলাদেশি ভারতে ঢুকছে? পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীরা কীভাবে ভারতীয় আধার, ভোটার পরিচয়পত্র পাচ্ছে?

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment