---Advertisement---

‘আন্দোলন করলে গ্রেফতারও সহ্য করতে হবে’, রাজ্যসভায় নড্ডার মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক; বিরোধীদের হইচই

By Suman Debnath

July 29, 2026 2:45 PM

‘আন্দোলন করলে গ্রেফতারও সহ্য করতে হবে’, রাজ্যসভায় নড্ডার মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক; বিরোধীদের হইচই

---Advertisement---


ছাত্র আন্দোলন, পুলিশি ধরপাকড় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে সংসদে ফের উত্তপ্ত বিতর্ক। রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা (JP Nadda) মন্তব্য করেন, আন্দোলনে অংশ নিলে পুলিশি পদক্ষেপের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়। নিজের ছাত্রজীবনের গ্রেফতারের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে সিপিএম (CPI(M)) এবং কংগ্রেস (Indian National Congress) এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সরকারকে আক্রমণ করে।

বুধবার রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাস (John Brittas)। তাঁর অভিযোগ, এসএফআই (SFI)-এর যুগ্ম সম্পাদক ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (Jawaharlal Nehru University)-এর প্রাক্তন ছাত্র সংসদ সভাপতি ঐশী ঘোষ (Aishe Ghosh)-কে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে দিল্লিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় দফতরে পুলিশ প্রবেশ করেছিল। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণেই পুরনো মামলাকে সামনে এনে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে নড্ডা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের দায়িত্ব। আন্দোলন করতে গেলে পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়াও গণতান্ত্রিক রাজনীতির বাস্তবতার অংশ। তাঁর কথায়, “আন্দোলন করতে গেলে এসব সহ্য করতেই হয়।”

নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও ছাত্র রাজনীতি করেছেন এবং জরুরি অবস্থার সময় বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস সরকারের আমলে তাঁকে একাধিকবার শ্রেণিকক্ষ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

নড্ডার এই বক্তব্যের সময়ই বিরোধী সাংসদদের হট্টগোল শুরু হয়। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান এবং বলেন, যদি আন্দোলনকারীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেন, তাহলে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই পারে।

এদিকে জন ব্রিট্টাস রাজ্যসভায় অভিযোগ করেন, ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের একমাত্র কারণ ছিল যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে তাঁর উপস্থিতি। তিনি আরও দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের কয়েকজন সদস্য পোশাক ছাড়াই সিপিএমের দফতরে প্রবেশ করেছিলেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে (Mallikarjun Kharge)-ও এই অভিযোগের সমর্থনে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি অভিযানের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক এবং অনুমোদনদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

ছাত্র আন্দোলন, বিরোধীদের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থান—এই তিনকে ঘিরে রাজ্যসভায় দিনের বড় রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়। আগামী দিনে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment