জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে যাচাই অভিযান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ লক্ষের বেশি নথি পরীক্ষা করে ১৩৫টি বাতিল করা হয়েছে, আরও ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যে জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) যাচাইয়ে বড়সড় অভিযান শুরু করেছে নবান্ন। সরকারি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ২২ হাজার ১১৭টি শংসাপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৩৫টি শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং ৪৫ হাজারেরও বেশি শংসাপত্র আরও যাচাইয়ের জন্য সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা বেড়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্রগুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই চলছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা নথির মধ্যে ৭৬ হাজার ৭৫০টি শংসাপত্র বৈধ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। বাকি বহু নথি নিয়ে এখনও তদন্ত ও যাচাই চলছে।
বর্তমান রাজ্য সরকারের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিশেষ করে এসসি, এসটি এবং ওবিসি শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। প্রশাসনের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যার ফলে ভুয়ো নথি তৈরি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষেরও ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।
সম্প্রতি বাঁকুড়ায় হুল দিবসের এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও শংসাপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথি জাল প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হবে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিয়ম অনুসারে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার আগে আবেদনকারীর বসবাসের এলাকা, পারিবারিক তথ্য এবং অন্যান্য নথি যাচাই করতে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি আধিকারিকদের তদন্ত ও শুনানি করার কথা। বর্তমান যাচাই প্রক্রিয়ায় সেই নিয়ম মেনে নথিগুলি পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, যেসব শংসাপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ছে, সেগুলিকে পৃথকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তদন্তে নথি ভুয়ো প্রমাণিত হলে তা বাতিল করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্য প্রশাসনের এই অভিযান এখনও চলমান। ফলে সন্দেহের তালিকায় থাকা ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই প্রকৃত সংখ্যা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে।
Leave a Comment