‘রাত ২টোর সময় অভিষেকের বাড়িতে গুন্ডাগিরি বিজেপির’, তোপ দাগলেন মমতা

By Suman Debnath

November 7, 2026 1:50 PM

‘রাত ২টোর সময় অভিষেকের বাড়িতে গুন্ডাগিরি বিজেপির’, তোপ দাগলেন মমতা


সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিয়া জোটে অংশ নেওয়ায় প্রতিহিংসার বশে ইচ্ছাকৃতভাবে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ তুললেন তিনি। আর পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার করারও অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তুলোধনা করেন তিনি। মধ্যরাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দাঁড়িয়েই আঙুল তুললেন বিজেপির দিকে।

এদিকে ৭ নভেম্বর তারিখের একটা তাৎপর্য আছে। একদিকে নভেম্বর বিপ্লব ঘটেছিল। অপরদিকে এইদিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। প্রত্যেক বছর তা খোলা আকাশের নীচে বাড়ির বাইরে জনগণের সামনে তা পালিত হয়ে থাকে। এবার তা ভণ্ডুল করতেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বসে মনে করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, ‘ক্ষমতা থাকলে আমার বুকের উপর দিয়ে বুলডোজার চালাক। রাত ৩টেয় ‘লুম্পেন’ নিয়ে কেন হামলা করা হচ্ছে? আমার বাড়ির পুজোয় যাতে কেউ যেতে না পারেন তার জন্য রাস্তা আটকে বেআইনিভাবে পুজো করা হচ্ছে। আর এখানে রাত ২টোর সময় অভিষেকের বাড়িতে গুন্ডাগিরি করছে বিজেপি।’

আরও পড়ুন:  রবীন্দ্র আলেখ্যে নারী চরিত্রেরা,পর্ব ৭: বিভার প্রেম এবং আত্মত্যাগ, ‘রবিবার’ গল্পে নারীসত্তার এক বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক দিক উন্মোচন

অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার মাঝরাত থেকে তাঁর বাড়ির সামনে জমায়েত করেন অনুগামীরা। তখন বিজেপির কিছু কর্মীরা কালীঠাকুর আনতে যাচ্ছিলেন বলে দাবি। তখনই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। চোর স্লোগান দেওয়া হয়, ছেঁড়া হয় অভিষেকের ব্যানার, কাটআউট। তাতে সাংসদের অনুগামীরা বাধা দেয়। হাতাহাতি বেধে যায়। পুলিশ এসে দু’পক্ষকেই সরিয়ে দেয়। বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন অভিষেক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাড়ির নিচে বসে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাংসদকে বাড়ির ভিতরে যেতে বলে পুলিশ। অভিষেক যাননি। পুলিশের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন। সকাল ৬টা নাগাদ বাড়িতে ঢোকেন তিনি।

তাছাড়া এদিন দুপুরে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ‘কালীপুজোর আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পুরনো ক্লাবগুলির পুজোতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথচ রাতারাতি নতুন নতুন পুজো শুরু হচ্ছে। আমার বাড়ির প্রবেশপথও কার্যত আটকে রেখে নতুন করে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অভিষেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। হেনস্তা চলতে থাকলে প্রতিবাদ হবে। কালীঘাট থানার ওসি-কে অভিষেক যখন বলে, তখন খারাপ ব্যবহার করেন। ওঁরা ভাবে ওঁরা ভগবান। আমার কারও সঙ্গে সমস্যা নেই। কিন্তু নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন! সরকারকে অবশ্যই সমর্থন করবেন। আমি জানি, সরকারের অধীনে পুলিশ কীভাবে কাজ করে। সীমা ছাড়িয়ে গেলে মনে রাখবেন, কিছু ফারাক হবে না। আমি নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দাঁড়াব। কয়েকটি থানা যা করে বেড়াচ্ছে! এখানে নতুন একজনকে আনা হয়েছে। সব জানি বলাইবাবু! আপনার কী ক্ষমতা, কত প্রোমোশন পাবেন। আপনি পান। আপনার পরিবার ভাল থাকুক। আপনাকে শুভ দীপাবলি। মনে রাখবেন, জনরোষের যদি বিস্ফোরণ ঘটে সমস্যা হবে।’

আরও পড়ুন:  রাত জেগে বিশ্বকাপ ফাইনাল, তাই সোমবার মর্নিং স্কুলে ছুটি বা উপস্থিতিতে ছাড়ের অনুমতি রাজ্যের

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment