সরকারি প্রকল্পে গড়িমসি নয়, গতি বাড়াতে আর্থিক ক্ষমতা বাড়াল রাজ্য সরকার

By Suman Debnath

November 7, 2026 1:20 PM

সরকারি প্রকল্পে গড়িমসি নয়, গতি বাড়াতে আর্থিক ক্ষমতা বাড়াল রাজ্য সরকার


রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা দিয়েছিলেন, আগের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। বিশেষ করে মানুষের উপকার হয় এমন কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। বরং প্রকল্পগুলিতে অর্থের অঙ্ক বাড়বে। ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নাম পরিবর্তন হয়ে রাখা হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। সেখানে দেড় হাজারের বদলে মহিলারা এখন মাসে তিন হাজার টাকা পাচ্ছেন। কিন্তু এমন বহু সরকারি সামাজিক প্রকল্প আছে যা থমকে রয়েছে। মানুষের কাছে সেই প্রকল্পের পরিষেবা পৌঁছচ্ছে না বলে অভিযোগ। আর তাই এবার সরকারি প্রকল্পের অনুমোদন-সহ কাজের গতি বাড়াতে নানা দপ্তরের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার।

এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছে যাবে। আর সেখানে অর্থ কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কোন দপ্তর কত টাকা পর্যন্ত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং আর্থিক মঞ্জুরি দিতে পারবে সেটা নতুন করে নির্ধারণ করেছে অর্থদপ্তর। কালীপুজোর পর থেকেই প্রকল্পে গতি বাড়ানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। একাধিক দপ্তর এই ক্ষমতা পেলে কাজে গতি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কোনও কাজ বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে সবসময় অর্থদপ্তরের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হলে অযথা সেই কাজে গড়িমসি হয়। তাতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এসব বাধা এড়াতেই সব দপ্তরের আর্থিক ক্ষমতা বাড়ালো নবান্ন বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন:  নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতব্রত শিবির, এক প্রতীকে দু’পক্ষ

এই নিয়ে একটি নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, পূর্ত, সেচ ও জলপথ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পুর ও নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ মঞ্জুর করতে পারবে। এটা অনেকটা বড় পদক্ষেপ। তার ফলে টাকার জন্য প্রকল্প থমকে থাকবে না। আগে এই দপ্তরগুলি সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারত। এবার এই দপ্তরগুলির ক্ষমতা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হল। যা অবশ্যই প্রভাব ফেলবে প্রকল্পগুলিতে। এখানেই শেষ নয়, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, অন্য দপ্তর এবং সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তরের ক্ষেত্রে এই আর্থিক সীমা ধার্য করা হয়েছে ৩ কোটি টাকা। যা এতদিন ছিল ১ কোটি টাকা। বাকি সব দপ্তর সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দিতে পারবে। এই দপ্তরগুলির খরচের সীমা আগে ৭৫ লক্ষ টাকা ছিল।

আরও পড়ুন:  ‘নির্বাসন শেষে ঘরে ফিরছি’, কলকাতা ফেরা নিয়ে আবেগঘন বার্তা তসলিমার

তাছাড়া আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হলেও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা  হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ, চলতি প্রকল্পের আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং দপ্তরের আর্থিক উপদেষ্টার সম্মতি বিবেচনা করেই অর্থ অনুমোদন দিতে হবে। নতুন প্রকল্প এবং সংশোধিত প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। রাজ্য সরকারের আশা, আর্থিক অনুমোদনের জন্য বারবার উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। আর একাধিক সরকারি প্রকল্পের অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের কাজে আরও গতি আসবে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment