চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতির নেতৃত্বে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠনের আবেদন জানাচ্ছে রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে থেকে একটি ভিডিয়ো বার্তায় এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা করে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আগামী কালই (রবিবার) কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখব। একজন বিচারপতির নেতৃত্বে যাতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গোটা ঘটনার তদন্ত করেন, সেই আর্জি জানাব আমরা।’
এর পরেই মৃত ও আহতদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্যেরও ঘোষণা করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করবে রাজ্য সরকার।’ একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি চাকরি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের চিকিৎসকার সব খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার। শুভেন্দুর কথায়, ‘আহতরা যে হাসপাতালে চান, আমরা সেখানেই তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। এর জন্য এক পয়সাও তাঁদের খরচ করতে হবে না। পুরোটাই রাজ্য সরকার করবে।’
পদপিষ্টের ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে রেয়াত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।’ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী এবং মৃত ও আহতদের আত্মীয়রা সাক্ষ্য দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পরেই রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের উদ্দেশে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, ‘গত বছর পুজোয় বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দার্জিলিংয়ে হড়পা বানে শতাধিক ভেসে গিয়েছিলেন। তাই রাজনীতি করবেন না।’ তবে যাঁরা ভিড় সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা কর্তব্যে অবহেলা করে থাকতে পারেন বলে অনুমান মুখ্যমন্ত্রীর।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকল, কলকাতা পুলিশ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। রাতে মৃত আরও একজন বেড়ে ১৮ হয় বলে জানা গিয়েছে।
Leave a Comment