বর্ধমান থেকে কথিত জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-যোগে অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তারের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসার দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলার কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য এক তরুণীকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি সম্ভাব্য ‘হানিট্র্যাপ’-চক্রের সূত্র মিলেছে। তদন্তে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের হদিস পাওয়া গিয়েছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই চ্যাটের ভিত্তিতে হামিমের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য সহযোগী এবং তথ্য আদানপ্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
শুক্রবার বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিংয়ের একটি জিম থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। পরে তাঁকে আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই-সহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, ঝাড়খণ্ডের বারহাওড় এলাকার বাসিন্দা অর্পিতা সরকার নামে এক তরুণীর সঙ্গে হামিমের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে হামিমের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পরীক্ষা করছেন। তবে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে এখনও কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে তাঁদের ব্যক্তিগত বা চলাফেরা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে বলে দাবি, হামিম মণ্ডলের পরিবারের আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর এলাকায়। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার পিলখানায় বসবাস করতেন। প্রায় দু’মাস আগে পরিবারটি বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। গ্রেপ্তারের পর ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে তদন্তকারীরা তল্লাশি চালান। প্রতিবেশীদের দাবি, তাঁরা কখনও বুঝতে পারেননি যে তাঁদের পাশের ফ্ল্যাটে এমন একজন ব্যক্তি বসবাস করছিলেন, যাঁকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই মামলায় তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইস, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এসটিএফ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
Leave a Comment