স্টেটসম্যানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী তথা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র
প্রশ্ন: কর্মসংস্থান নিয়ে এতটা আত্মবিশ্বাসী কীভাবে?
উত্তর: ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’—এই বার্তাই দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মানুষ নিজের ভোট নিজেই দিয়েছেন। আমাদের সরকারের বয়স সবে দু’মাস হতে চলেছে। এর মধ্যেই মানুষ দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন, আমাদের উপর ভরসা রেখেছেন। আমরা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
প্রশ্ন: শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যের দায়িত্ব। কীভাবে সামলাচ্ছেন?
উত্তর: মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির উপর ভরসা করেছেন। সেই ভরসা ও বিশ্বাস অটুট রাখার দায়িত্ব আমাদের। গোটা রাজ্য জুড়ে কাজ চলছে। মানুষ প্রথমবার নিজের ভোট নিজে দিয়েছেন। এই পরিবর্তন মানুষই চেয়েছিল, তাই এসেছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করার চেষ্টা করছি। গত ১৫ বছরে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। ভিতরটা একেবারে পচে গিয়েছে। সেই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে কাজ করতে হচ্ছে। তবে আমরা কাজ করবই।
প্রশ্ন: শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, সিঙ্গুরে টাটা আসবেই। কেন শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গকেই শিল্পের জন্য বেছে নেবেন?
উত্তর: গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে শিল্প কার্যত হারিয়ে গিয়েছে। কর্মসংস্থান হয়নি বললেই চলে। শিল্পপতিরা আসলেও তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি কলকাতা-হাওড়ার মতো জায়গা থেকেও শিল্পপতিদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আমাদের রাজ্যে এত মেধাবী ছেলে-মেয়ে রয়েছে, অথচ কাজের জন্য তাঁদের অন্য রাজ্যে যেতে হয়েছে। কারণ এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল না। আমাদের রাজ্যের মেধার সুফল অন্য রাজ্য পাচ্ছে।
শিল্প না থাকলে কর্মসংস্থান হয় না। তাই বড় ঘাটতি থেকে কাজ শুরু করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আপনারা দেখেছেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে ২৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। শিল্পপতিরা কেন আসছেন? কারণ তাঁরা এখন এই সরকারের উপর ভরসা করতে পারছেন, যা এতদিন পারেননি।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। পূর্বতন সরকারের আমলে কাটমানি, তোলাবাজি, পার্টি অফিসে গিয়ে দেখা করার সংস্কৃতি, নেতাগিরি ও দাদাগিরিই চলত। পাশের রাজ্য ওড়িশা ও অসমের দিকে তাকান। তারা কতটা এগিয়ে গিয়েছে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ সরকারকেই তৈরি করতে হয়। তবেই শিল্পপতিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হন, আর এখন সেই আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
প্রশ্ন: তৃণমূল সরকারের আমলে আদানি গোষ্ঠী একটি বন্দর প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প এগোয়নি। এবার কি সেই কাজ শুরু হবে?
উত্তর: আদানি গোষ্ঠী শিল্পের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কেন প্রকল্প এগোয়নি, তার কারণ আগেই বলেছি। সিঙ্গুরে কারখানা তৈরি করেও রতন টাটাকে চলে যেতে হয়েছিল। সেটাই অনেক কিছু বলে দেয়। তবে বন্দরের যে কাজ এগোয়নি, এবার সেই কাজ দ্রুত শুরু হবে।
প্রশ্ন: আমুলের কারখানা হোক বা লাক্স কোজির বিনিয়োগ—সবটাই আইওয়াশ বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এ বিষয়ে আপনার কী মত?
উত্তর: আমুল, লাক্স কোজি কিংবা শ্যাম স্টিল—সব ক্ষেত্রেই পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধু জমি কিনে ফেলে রাখা হয়নি, বাস্তবে কাজ চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে মানুষই শেষ পর্যন্ত বিচার করবেন। কারণ তাঁদের পরিবারের ছেলেমেয়েরাই তো আগামী দিনে চাকরি পাবেন। ৫০ বছর ধরে শিল্প হয়নি, কর্মসংস্থান হয়নি। বড় শিল্প প্রকল্প রাতারাতি তৈরি হয় না। কিছুটা সময় দিন, সবই নিজের চোখে দেখতে পাবেন।
Leave a Comment