---Advertisement---

১৫ বছরে কত দুর্নীতি? ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সব প্রকল্প খতিয়ে দেখবে নবান্ন

By Suman Debnath

July 14, 2026 10:20 PM

১৫ বছরে কত দুর্নীতি? ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সব প্রকল্প খতিয়ে দেখবে নবান্ন

---Advertisement---


West Bengal Corruption Probe Commission: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল আমলের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। রাজ্য সরকারের জারি করা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তর ও প্রকল্পে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করবে এই কমিশন।

কোন কোন অভিযোগের তদন্ত হবে?

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষা, খাদ্য ও সরবরাহ, পঞ্চায়েত, পুরসভা, আবাসন, মৎস্য, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে—

  • মিড-ডে মিল প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম
  • ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) সংক্রান্ত অভিযোগ
  • আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ
  • ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের ত্রাণ বণ্টনে অনিয়ম
  • সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিয়োগ দুর্নীতিও তদন্তের আওতায়

কমিশনের তদন্তের আওতায় থাকছে—

  • প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগে অনিয়ম
  • সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ
  • ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী নেতা বা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বেআইনি গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ
  • পুরসভার নিয়ম ভেঙে বেআইনি নির্মাণে প্রশাসনিক ভূমিকার অভিযোগ
আরও পড়ুন:  উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন চিকিৎসক হরেকৃষ্ণ বেরা

কমিশনের নেতৃত্বে কারা?

তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে

তদন্ত শাখার দায়িত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার কে. জয়রামন। প্রশাসনিক কাজ দেখবেন আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস পর্যায়ের এক আধিকারিক। প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ রেভিনিউ সার্ভিস (WBRS)-এর একজন আধিকারিক। প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা যাবে কমিশনের সঙ্গে।

কী কী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিশনকে সিভিল কোর্টের সমতুল্য ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে—

  • যে কোনও ব্যক্তিকে তলব করা যাবে
  • সাক্ষ্য ও বয়ান রেকর্ড করা যাবে
  • সরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া যাবে
  • প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করা যাবে

কী করতে পারবে না কমিশন?

সরকার স্পষ্ট করেছে, এই কমিশন সিবিআই, ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যে মামলাগুলির তদন্ত করছে, তাতে কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। পাশাপাশি এটি কোনও গোয়েন্দা সংস্থার বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে না।

আরও পড়ুন:  বিকাশ ভবনে প্রথম পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী

নিয়মিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে

কমিশনকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, তদন্তে যদি সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই অর্থ কীভাবে পুনরুদ্ধার বা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব, সে সম্পর্কেও সরকারকে সুপারিশ করবে কমিশন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল আমলের বিভিন্ন প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে এই কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা ও দায় নির্ধারণ শেষ পর্যন্ত তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment