---Advertisement---

ইউক্রেনে পরমাণু বোমা ফেলতে পারত রাশিয়া, মোদীর কথায় পুতিন সেটা করেননি: পোলিশ বিদেশমন্ত্রী

By Suman Debnath

July 14, 2026 9:00 PM

ইউক্রেনে পরমাণু বোমা ফেলতে পারত রাশিয়া, মোদীর কথায় পুতিন সেটা করেননি: পোলিশ বিদেশমন্ত্রী

---Advertisement---


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ukraine War) সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এক মুহূর্তে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে ভ্লাদিমির পুতিনকে (Vladimir Putin) নিরস্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লি সফরে এসে ফের একবার এই বিস্ফোরক দাবি করলেন পোল্যান্ডের উপ-বিদেশমন্ত্রী তথা সেক্রেটারি অফ স্টেট ভাদিস্লাভ তেওফিল বার্তোশেভস্কি (Wladyslaw Teofil Bartoszewski)। যদিও এই একই দাবি তিনি এর আগে ২০২৫ সালের রাইসিনা ডায়ালগেও (Raisina Dialogue) তুলেছিলেন, তবু নতুন করে তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ঠিক কী দাবি করলেন পোলিশ মন্ত্রী

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে (ANI) দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্তোশেভস্কি জানান, ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে টার্গেটেড বা রণকৌশলগত পরমাণু অস্ত্র (Tactical Nuclear Weapons) ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন পুতিন। তাঁর দাবি, আমেরিকা বারবার বার্তা পাঠানো সত্ত্বেও পুতিনকে প্রথমে নিরস্ত করা যায়নি, কিন্তু চিনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর ফোনালাপের পরই তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। বার্তোশেভস্কির ভাষায়, রাশিয়া যে দু’টি দেশকে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করে, সেই ভারত ও চিন যখন একযোগে যুদ্ধ সমর্থন না করার বার্তা দেয়, তখনই পুতিন পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন।

Teofil Bartoszewski (www.gov.pl)

পুতিনের কাছে ভারতের ভূমিকা

বার্তোশেভস্কির মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের কয়েক দশকের সম্পর্কের কারণেই মস্কোর কাছে নয়াদিল্লির কথার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা, যে দেশগুলিকে রাশিয়া শত্রু বলে মনে করে না, তাদের কাছ থেকে সংযমের আহ্বান এলে তার প্রভাব অনেক বেশি কার্যকর হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সেই পরিচিত মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে মোদী বলেছিলেন, এই যুগ যুদ্ধের নয়, বরং সংলাপের।

আরও পড়ুন:  নিজ্জর হত্যা মামলায় লরেন্স বিষ্ণোইকে চাইতে পারে আমেরিকা, প্রত্যর্পণ ঘিরে নতুন জল্পনা

আর কী বললেন বার্তোশেভস্কি

শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন প্রসঙ্গই নয়, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়েও ভারতের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন পোলিশ মন্ত্রী। তাঁর কথায়, জ্বালানি আমদানিকারী দেশ হিসেবে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানই সঠিক পথ, বিশেষত স্ট্রেট অফ হরমুজের (Strait of Hormuz) মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার প্রশ্নে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকেও পোল্যান্ড পূর্ণ সমর্থন জানায়। যদিও সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর প্রশ্নে ভেটো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করাই সবচেয়ে বড় বাধা বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি

এক সময় রাশিয়া থেকে ভারত যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তা নিয়ে সরব ছিল পোল্যান্ড। কারণ, তাদের আশঙ্কা ছিল এতে রাশিয়ার যুদ্ধ-অর্থনীতিই পরোক্ষে চাঙ্গা হচ্ছে। তবে বার্তোশেভস্কি এবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মতপার্থক্য এখন অনেকটাই মিটে গিয়েছে এবং দুই দেশই একে অপরের অবস্থান বুঝতে পেরেছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়েও ভারতের উদ্বেগের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতিই পোল্যান্ড জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলে।

আরও পড়ুন:  আবারও কোভিডে মৃত্যু, ফের লকডাউন?

পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারত-পোল্যান্ড এই ক্রমবর্ধমান কৌশলী ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমবঙ্গের জন্যও একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বার্তোশেভস্কি নিজেই জানিয়েছেন, ড্রোন উৎপাদন-সহ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যৌথ নির্মাণে দুই দেশ এগিয়ে আসছে। উল্লেখ্য, একটি পোলিশ সংস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে। রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভারী শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য, হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের ভৌগোলিক সুবিধা এবং দক্ষ কর্মীবাহিনীর কথা মাথায় রাখলে, এই ধরনের প্রতিরক্ষা বা প্রযুক্তি বিনিয়োগে পশ্চিমবঙ্গও ভবিষ্যতে অংশীদার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পমহলের একাংশ।

বিতর্কিত দাবি

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পুতিনকে সরাসরি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে মোদীর নির্দিষ্ট এই ভূমিকা নিয়ে ক্রেমলিনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এটি মূলত পোলিশ মন্ত্রীর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্য, যা তিনি একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন। সমরকন্দে এসসিও সম্মেলনে মোদীর উচ্চারিত, ‘যুদ্ধের যুগ নয়’ মন্তব্যটি সুবিদিত ও নথিভুক্ত হলেও, নির্দিষ্ট ফোনালাপে পরমাণু হামলা রুখে দেওয়ার দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই এই দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে না নিয়ে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ হিসেবেই দেখা শ্রেয়।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment