কলকাতা: দেশজুড়ে NEET-UG প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের (NEET Paper Leak Protest) জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর ইস্তফার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে তাঁর মন “ভারাক্রান্ত”, তবে দেশের শিক্ষা ও পূর্ব ভারতের উন্নয়নে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শনিবার এক্স (X)-এ করা পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, জনজীবনে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু যে মানুষ দেশ গঠনে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রেখে যান, ইতিহাস তাঁদেরই মনে রাখে। তাঁর দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে কার্যকর হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (National Education Policy 2020) দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত আরও মজবুত হয়েছে, বহুমুখী শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে এবং ভারতের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষতায় গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের লক্ষ্য শুধুমাত্র শিক্ষাদান ছিল না, বরং ভারতীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি করা।
শুধু শিক্ষা নয়, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হিসেবে কাজেরও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana)-র মাধ্যমে কোটি কোটি মহিলার কাছে পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি পৌঁছে দেওয়াকে তিনি সামাজিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘মিশন পূর্বোদয়’ (Mission Purvodaya)-এর মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধান পূর্ব ভারতের উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় তুলে ধরেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্বাঞ্চলের সম্ভাবনা, সম্পদ এবং মানবসম্পদের উপর তাঁর বিশেষ গুরুত্ব ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে শুভেন্দু লেখেন, “ইতিহাস তাঁদেরই মনে রাখে, যাঁরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, মানুষের জীবন বদলে দেন এবং দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যান।” পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধানের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরই যন্তর মন্তরের ৪৯ দিনের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা করে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিক দফার আলোচনার পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের আশ্বাস পাওয়ার পরই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের সদিচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়েই আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেই নজর থাকবে।
Leave a Comment