মুম্বইয়ে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে জেন জি-র আন্দোলন, শিক্ষাব্যবস্থা এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।
দেশের তরুণ প্রজন্ম বা জেন জি (Gen Z)-কে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। মুম্বই (Mumbai)-তে এক ছাত্র-ছাত্রীদের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তরুণদের আন্দোলনকে দেশবিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং তাঁদের উদ্বেগ ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। একই মঞ্চ থেকে তিনি এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়েও মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, বর্তমান প্রজন্মের ক্ষোভ বা প্রতিবাদের পিছনে বাস্তব কারণ থাকতে পারে। তাই তাঁদের উপেক্ষা না করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যাতে কোনও যোগ্য শিক্ষার্থী বঞ্চিত না হন এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে পারে।
ভাগবত বলেন, সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। দেশের অগ্রগতিতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেন জি-র মতামত বা প্রতিবাদকে বিরোধিতার চোখে না দেখে, তাদের বক্তব্য শোনা এবং বোঝার চেষ্টা করা উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে নিট (NEET)-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন দেখা গিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ভাগবতের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট আন্দোলনের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর বক্তব্যকে সাম্প্রতিক ছাত্র-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী কয়েক বছরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh)-সহ বিভিন্ন রাজ্যে নতুন ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির নজর এখন যুব সমাজের দিকে। এই আবহে সংঘ প্রধানের বক্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মত প্রকাশ করেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষ সমাজেরই অংশ এবং তাঁদের সমাজের বাইরে দেখার কোনও কারণ নেই। সমকামী যুগলদের একসঙ্গে থাকার জন্য উপযুক্ত আইনি কাঠামো থাকা উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেও নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, আরএসএসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে তরুণদের আন্দোলন এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়— দুই বিষয়েই তুলনামূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা সামনে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।
Leave a Comment