---Advertisement---

তৃণমূল ভাঙতেই ‘প্ল্যান বি’? এবার হাট করে খোলা হচ্ছে দরজা, বিজেপি-র অন্দরে বাড়ছে জল্পনা

By Suman Debnath

August 6, 2026 7:35 PM

তৃণমূল ভাঙতেই ‘প্ল্যান বি’? এবার হাট করে খোলা হচ্ছে দরজা, বিজেপি-র অন্দরে বাড়ছে জল্পনা

---Advertisement---


পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনীতিতে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে দলবদলের রাজনীতি। সম্প্রতি একাধিক সাংসদকে দলে নেওয়ার পর এবার আরও বড় কৌশল নিয়ে এগোতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-কে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতে আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে দলবদলের পথে হাঁটতে পারে বিজেপি। যদিও দলের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অন্দরে ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

সম্প্রতি সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev), সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Ray) এবং প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Chik Baraik)-কে দলে নেওয়ার পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানিয়েছিলেন, এটি একটি ‘ব্যতিক্রমী’ সিদ্ধান্ত, দলের নীতিগত পরিবর্তন নয়। একইসঙ্গে তিনি আগের মতোই ‘ভালো তৃণমূল’ তত্ত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, আগামী দিনে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তর থেকে আরও নেতাকর্মীকে বিজেপির ছাতার তলায় আনার প্রস্তুতি চলছে।

দলীয় সূত্রে দাবি, এই কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হল সরাসরি বিজেপিতে যোগদান নিয়ে যে আপত্তি সংগঠনের একাংশে রয়েছে, তা কিছুটা পাশ কাটিয়ে বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করা। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, এই প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিগুলিকেও ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করার ভাবনা রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন:  শেষ মুহূর্তে বাতিল মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর, আপাতত হচ্ছে না শুভেন্দু-এনসিপিআই সাংসদদের বহুচর্চিত বৈঠক

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে সংখ্যার অঙ্কই বিজেপির এই কৌশলের মূল কারণ হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের হাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে শরিক দলের উপর নির্ভর না করে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানোর দিকেই জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হলে অনেক সময় দলীয় স্তরে কিছু আপস করতেই হয়। তাঁর বক্তব্য, “দেশ আগে, তারপর দল। বৃহত্তর স্বার্থে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাতে দলের একাংশের অসন্তোষ তৈরি হলেও জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।”

তবে এই সম্ভাব্য কৌশল ঘিরে বিজেপির অন্দরেও প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করা কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে, অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা রাজনৈতিক অভিযোগ তুলে বিজেপি আন্দোলন করেছে, তাঁদের কেউ দলে এলে কর্মীদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘আমাদের বহু নেতা আছে যারা এই মধুতে আসক্ত’, কড়া ভাষায় বিঁধলেন দিলীপ

এই প্রসঙ্গে বিজেপির বক্তব্য, ভবিষ্যতে নতুন কেউ দলে যোগ দিলে তাঁর অতীত ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি নতুন সদস্যদের কর্মকাণ্ডের উপর নজর রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সম্ভাব্য কৌশল বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত বিজেপি কতটা আগ্রাসীভাবে এই পথে হাঁটে এবং তার প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে আগামী দিনে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment