প্রথমবার ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সরকারিভাবে যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের ঘোষণা

By Suman Debnath

August 6, 2026 7:05 PM

প্রথমবার ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সরকারিভাবে যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের ঘোষণা


প্রথমবার কেন্দ্রের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সরকারি ভাবে অংশ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সারা রাজ্যে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ শুরু হয়েছে। এবার তিরঙ্গা র‌্যালি, পদযাত্রা, আলোকসজ্জা ও একাধিক দেশাত্মবোধক কর্মসূচির আয়োজনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘নেশন ফার্স্ট’ এবং দেশপ্রেমের আদর্শকে সামনে রেখেই কেন্দ্রের এই কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছে রাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৫ অগস্ট থেকেই জাতীয় পতাকা বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের ২২টি জেলা, কলকাতা পুরসভা, সাতটি পুরনিগম, ৪৩টি মহকুমা, ৩৪২টি ব্লক এবং ১২১টি পুরসভায় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সংস্থা, সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুব সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘কমিউনিস্ট ও ককরোচদের থেকে সাবধান’, পুজো দিতে গিয়ে বামেদের নিশানা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৪ অগস্ট দুপুর ৩টে নাগাদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি বিশাল তিরঙ্গা র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। র‌্যালিতে মন্ত্রিসভার সদস্য, মুখ্যসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা অংশ নেবেন। সেখানে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতির আশা করছে সরকার। ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

রাজ্যজুড়ে দেশাত্মবোধক গান, প্রবন্ধ, কুইজ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা, সচেতনতামূলক পদযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে তিরঙ্গার রঙে আলোকিত করা হবে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা, হোটেল ও শপিং মলগুলিকেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তৎকালীন তৃণমূল সরকার এই কর্মসূচিতে কেন অংশ নেয়নি সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারিভাবে অংশগ্রহণ করছে। আগের সরকার কেন অংশ নেয়নি, তার উত্তর আমি দিতে পারব না। সেটা তাঁদেরই জিজ্ঞাসা করতে হবে। এটি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়, বরং দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবোধকে আরও জোরদার করার উদ্যোগ।’ যাঁরা ‘দেশ সর্বাগ্রে’ নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাঁদের সকলেরই এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:  ‘কেমন করে হামলা হল?’ কুণালের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

এর পাশাপাশি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে ৭ আগস্ট সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত একটি পৃথক তিরঙ্গা যাত্রারও আয়োজন করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, সেটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বিধায়ক হিসেবে নাগরিকদের নিয়ে আয়োজিত একটি অরাজনৈতিক উদ্যোগ। ভবানীপুর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment