‘দম থাকলে ব্রিগেড ভরান’, একুশে জুলাইয়ের সভা ঘিরে কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

By Suman Debnath

July 15, 2026 10:00 AM

‘দম থাকলে ব্রিগেড ভরান’, একুশে জুলাইয়ের সভা ঘিরে কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের


একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস উদ্‌যাপন ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল। ধর্মতলায় সভার অনুমতি না মেলায় কালীঘাট শিবিরকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কর্মসূচি করার প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ। সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানানো নিয়েই বুধবার কটাক্ষ ছুড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, “দম থাকলে ব্রিগেডে যান, কর্মী থাকলে মাঠ ভরিয়ে দেখান। তা না হলে বাড়িতে শহিদদের ছবিতে মালা দিয়ে কর্মসূচি পালন করুন।”

২১ জুলাই দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করে আসছিল দল। তবে এবার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় একই কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

আরও পড়ুন:  মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

দলীয় ভাঙনের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে শহিদ দিবস পালনের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানায়। অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরও ধর্মতলায় একই দিনের জন্য অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ধর্মতলায় কোনও পক্ষকেই সভার অনুমতি দেয়নি।

পরবর্তীতে ঋতব্রতপন্থীরা রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক করে মেয়ো রোডের গান্ধীমূর্তির পাদদেশে কর্মসূচি করার অনুমতি পায়। অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরকে বিকল্প হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তাতে সম্মতি জানায়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিগেডে পর্যাপ্ত জনসমাগম হবে কি না, সেই আশঙ্কাই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে।

বুধবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় এই বিষয়েই সরব হন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “যদি কর্মী থাকে, তাহলে ব্রিগেড ভরিয়ে দেখান। মাঠ ভরবে কি না, সেই ভয় কেন? আর যদি না পারেন, তাহলে বাড়িতেই শহিদদের ছবি রেখে শ্রদ্ধা জানান। সেখানেও তো সম্মান জানানো যায়।”

অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, উপযুক্ত জায়গা না মিললে বিকল্প উপায়েও ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রয়োজনে রিকশায় চেপেও সভা করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

আরও পড়ুন:  ‘আগামী দিনে সনাতনী মেয়র পাবে কলকাতাবাসী’, বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন সুকান্ত

একুশে জুলাইকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই নজর থাকছে শেষ পর্যন্ত কোন শিবির কোথায় এবং কীভাবে শহিদ দিবস পালন করে। একইসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণও এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment