বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় এসে ভুলে যাননি। এবার নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পশ্চিম মেদিনীপুর সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে আসছেন তিনি বলে সূত্রের খবর। সবংয়ের কাঁটাখালি এলাকায় দুই মেদিনীপুরের সংযোগস্থলে কেলেঘাই নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে বিপুল পরিমাণ মানুষের উপকার হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সফরের ঠিক আগেই এই সেতুকে ঘিরে জেলা এবং ব্লক প্রশাসনের অন্দরে জোর তৎপরতা হয়ে গিয়েছে।
কদিন আগে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি হামিম মণ্ডল ধরা পড়েছে। যে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলা করার ছক কষেছিল। তাই তাঁর সফরের আগে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এখন বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যাতায়াত করতে শুরু করেছেন। এই সফরের আগে সবং বিডিও অফিসে জেলা প্রশাসন বৈঠকে বসে। সেখানে পূর্তদপ্তরের আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সবংয়ের বিধায়ক অমল পন্ডা, বিডিও রোমান মণ্ডল-সহ অন্যান্যরা। বিধায়ক এবং বিডিও দু’জনেই জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই সেতুর কাজ শুরুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জমিজট কেটে যাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রীর কবে আসবেন সবংয়ে তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ নবান্ন থেকে এখনও নির্দিষ্ট তারিখ জেলা নেতৃত্বের কাছে এসে পৌঁছয়নি। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১১ আগস্ট বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনী এলাকায় আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠান থেকে প্রশাসনিক ঘোষণা অথবা প্রকল্পের শিলান্যাসও করতে পারেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে কাঁটাখালি সেতু ঘিরে জোর তৎপরতা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সবংয়ে ভোটপ্রচারে এসে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যে কাঁটাখালি সেতু নির্মাণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
তাছাড়া কেলেঘাই নদীর উপর সবংয়ের মোহাড় অঞ্চলের কাঁটাখালি এলাকায় একটি কাঠের সেতু আছে। সেতুর একপ্রান্তে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং এবং অপরপারে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর। টাকা দিয়ে এই কাঠের সেতু পারাপার করতে হয় দুই মেদিনীপুরের বাসিন্দাদের। তবে ওই সেতু দিয়ে বাস, ট্রাক অথবা কোনও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তার জেরে দুই মেদিনীপুরের মধ্যে সড়কপথে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই এই সেতুর শিলান্যাস হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, ‘২০১২ সালে এই সেতুর জন্য ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। মাত্র দশজন অনিচ্ছুক চাষির জন্য সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি। সেতুর শিলান্যাস আমরা করে দিয়েছিলাম।’
Leave a Comment