---Advertisement---

হামের থাবায় শিশুমৃত্যু বাড়ছে, নিঃস্ব পরিবার

By Suman Debnath

August 6, 2026 1:50 PM

হামের থাবায় শিশুমৃত্যু বাড়ছে, নিঃস্ব পরিবার

---Advertisement---


বাংলাদেশে আবারও হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একসময় নিয়ন্ত্রণে থাকা এই প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, দেশের নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের আর্থিক অবস্থার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।


সম্প্রতি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথ মূল্যায়নে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। দেশের ১২টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৯টি পরিবার চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে গিয়ে ঋণের ফাঁদে পড়েছে। একই সঙ্গে ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় পুরোপুরি শেষ করে ফেলেছে।


জরিপে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ আক্রান্ত পরিবার অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। তাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জন্য সন্তানের চিকিৎসার কারণে কর্মস্থলে যেতে না পারা মানে একদিকে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অন্যদিকে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে সম্পদ বিক্রি করছে, আবার কেউ কেউ সহায়তার আশায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  দেশের কয়েক অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা


চিকিৎসকদের মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টির মতো জটিলতায় ভুগছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও রোগীর পরিবারের ওপর পরিবহন, ওষুধ এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যয় বহনের চাপ থেকেই যাচ্ছে। ফলে দরিদ্র পরিবারের জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচই কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার টাকায় পৌঁছে যাচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে আসে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম এবং হামের উপসর্গে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি। নিয়মিত বুস্টার ডোজ নিশ্চিত না হওয়া, দুর্গম এলাকায় টিকার সীমিত প্রাপ্যতা, পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং মহামারির পর স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা হামের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি অনেক পরিবার দেরিতে হাসপাতালে যাওয়ায় রোগ জটিল আকার ধারণ করছে।

আরও পড়ুন:  সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে গণপিটুনি


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের সব ধরনের পরীক্ষা, ওষুধ, পুষ্টি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যাতায়াত ব্যয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদান, বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান অভিযান পরিচালনা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে কোনো শিশুর মৃত্যু কিংবা একটি পরিবারের অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কখনোই কাম্য নয়। তাই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সবার জন্য সহজলভ্য ও ব্যয়মুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


আমার বাঙলা/ রাব্বি

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment