স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট! পাকিস্তানের নির্দেশে বাংলায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ

By Suman Debnath

August 3, 2026 7:26 PM

স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট! পাকিস্তানের নির্দেশে বাংলায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঞ্জাবে একাধিক পুলিশ অফিসারকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের সদস্যরা। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের দাবি, ঠিক একই কায়দায় পশ্চিমবঙ্গেও হামলার পরিকল্পনা করেছিল হামিম মণ্ডল। স্বাধীনতা দিবসকেই হামলার দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গোটা পরিকল্পনার নিয়ন্ত্রণ ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাতেই বলে দাবি তদন্তকারীদের।

ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে, পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের জঙ্গিরা রাজ্যের অন্তত ছয়জন মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হানিট্র্যাপ করার পরিকল্পনা করেছিল। সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ধৃত জঙ্গি নেতা হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, হামিম মণ্ডল শেহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করার পাশাপাশি তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের (টিটিএইচ) সদস্যও ছিল। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে পাঞ্জাবে পুলিশ অফিসারদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে টিটিএইচ জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন:  সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের পূর্বাভাস, উইকএন্ডে কেমন থাকবে আবহাওয়া?

গোয়েন্দাদের দাবি, হামিম মণ্ডল এবং তার সহযোগীরা পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পুলিশ অফিসার ও পুলিশ আধিকারিকের উপর একই ধরনের হামলা চালিয়ে তাঁদের খুনের পরিকল্পনা করেছিল।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের আইএসআই বিভিন্ন ধরনের দেশবিরোধী প্রচার, হামলা ও নাশকতার জন্য ৫ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সরবরাহ করত। শেহজাদ ভাট্টি গ্যাং এবং টিটিএইচ-এর মতো সংগঠনগুলির মাধ্যমে এই ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হত বলেই দাবি রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, হামিম মণ্ডল এবং তার সহযোগীরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমস্ত তথ্য ও আপডেট পাকিস্তানে পাঠাত। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর উপর অস্ত্র নিয়ে হামলার পরিকল্পনাও করেছিল জঙ্গিরা। সেই হামলার জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

আরও পড়ুন:  নিম্নচাপের প্রভাবে ফের ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস! সপ্তাহান্তে ভিজবে উত্তর-দক্ষিণ?

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম মণ্ডল একা ছিল না। পাকিস্তানের হ্যান্ডলাররা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আরও কয়েকজনকে নিয়োগ করেছিল। তাঁদের দিয়েও আলাদাভাবে নাশকতার কাজ করানোর চেষ্টা চলছিল বলে দাবি। ইতিমধ্যেই অসম, রাজস্থান, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ থেকে এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে বাংলায় টিটিএইচ-এর একাধিক মডিউল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের নির্দেশে হামিম মণ্ডল রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় বৈঠকও করেছিল। অস্ত্র ব্যবহার করে নাশকতা চালানোর জন্য কিছু দুষ্কৃতীকেও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি তহবিল ও অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় স্লিপার সেল তৈরি করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment