---Advertisement---

রাত পোহালেই রাজপথে বিজেপি, মঙ্গলে শঙ্ঘ পরিবারের সকল সংগঠন

By Suman Debnath

July 26, 2026 7:55 PM

রাত পোহালেই রাজপথে বিজেপি, মঙ্গলে শঙ্ঘ পরিবারের সকল সংগঠন

---Advertisement---


কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার পরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন শেষ হয়েছে। কিন্তু কলকাতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বিজেপি ‘ছাত্র আন্দোলন’ নামে ‘নৈরাজ্য’ তৈরির অভিযোগ তুলে কলকাতায় পথে নামছে। সঙ্ঘ পরিবারের শিক্ষা সংগঠনগুলিও পথে নামছে। ফলে আবার পর পর দু’দিন মিছিল-জমায়েতের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা।

সোমবার সকালে বিজেপি পথে নামছে। মঙ্গলবার হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে জোড়া মিছিল নিয়ে ধর্মতলামুখী হচ্ছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন।

সোমবার বিজেপির মিছিল বেলা ৩টে থেকে। উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির উপরে এই মিছিল আয়োজনের দায়িত্ব পড়েছে। প্রথমে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে জড়ো হবেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। সেখান থেকে পদযাত্রা করে পৌঁছোবেন ধর্মতলা। উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলছেন, ‘আমরা নৈরাজ্য, অরাজকতা তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে পথে নামছি।’

তমোঘ্নের কথায়, ‘গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলতেই পারে। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের নাম করে কলকাতার বুকে যে ভাবে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে, তা আমরা মেনে নেব না। আজ়াদি স্লোগান আমরা চলতে দেব না।’

নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার বিকেলে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে এসএফআই-সব বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, ‘ককরোচ’ পরিচয়েও অনেকে তাতে যোগ দেন। মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছোনোর পরে পুলিশের দিকে বোতল, জুতো ইত্যাদি ছোড়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। পুলিশও পাল্টা লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গিয়েছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন কর্তব্যরত একাধিক সাংবাদিক। মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছিল।

আরও পড়ুন:  আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, উত্তরে ভারী বৃষ্টি, জানাল আবহাওয়া দপ্তর

শুক্রবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম হাসপাতালে যান চিকিৎসাধীন সাংবাদিক, চিত্রসাংবাদিকদের দেখতে। সংবাদমাধ্যমের উপরে এই হামলায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপের আশ্বাসও এসএসকেএম থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো শনিবার থেকেই পুলিশ তৎপর হয়ে আসরে নামে। ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহ এবং অশান্তির ঘটনায় ধরপাকড় শুরু হয়। ইতিমধ্যেই সে অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও গ্রেফতারি হবে বলে কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর।

সরকারের পাশাপাশি বিজেপি-ও তৎপরতা বাড়াচ্ছে এই ঘটনাপ্রবাহে। বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, অশান্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যা পদক্ষেপ করার করুক। বিজেপি-ও পথে নামবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিতে। সেই লক্ষ্যেই সোমবার মিছিলের ডাক।

সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা দিতে না-চাইলেও, প্রায় একই বিষয় নিয়েই পথে নামছে শিক্ষাক্ষেত্রে সক্রিয় থাকা সঙ্ঘী সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার তারা মিছিলের ডাক দিয়েছে। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’ নামে একটি অভিন্ন ব্যানারের অধীনে শুক্রবার বিকেল থেকেই জেলায় জেলায় পথে নামতে শুরু করেছিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সঙ্কলন সমিতি ইত্যাদি সংগঠন। মঙ্গলবার তারাই কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে। বেলা ১২টা থেকে হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে জমায়েত শুরু করবে সঙ্ঘ পরিবারের শিক্ষাক্ষেত্রের সংগঠনগুলি। ১টা নাগাদ শুরু হবে পদযাত্রা। দু’টি মিছিলই ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং-এ পৌঁছে শেষ হবে। সেখানে হবে পথসভা।

আরও পড়ুন:  ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ, শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি—‘মমতার সাক্ষ্যই নেওয়া হয়নি, গুলির নির্দেশ মণীশ গুপ্তের’

অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের রাজ্য নেতা বাপি প্রামাণিকের কথায়, ‘ছাত্র আন্দোলন বা ছাত্রদের উদ্বেগের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে, থাকবেও। কিন্তু সেই আন্দোলনকে হাতিয়ার করে যে ভাবে দেশবিরোধী স্লোগান তোলা হয়েছে, যে ভাবে চূড়ান্ত অপসংস্কৃতির প্রদর্শনী হয়েছে, যে ভাবে ভাষার শালীনতার সীমা ছাড়ানো হয়েছে, তা আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়।’

বাপির কথায়, ‘যে সব অপশক্তি ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে পড়েছিল, তারা যাতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উপরে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতেই আমরা পথে নামছি। নৈরাজ্য এবং রাষ্ট্রবিরোধিতার বিরুদ্ধে বৃহত্তর সমাজকে বার্তা দিতে আমরা মিছিল করব।’

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment