কলকাতার রাস্তায় উঠেছে ‘আজাদি’র স্লোগান। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত। আজ কার্গিল বিজয় দিবসে, শহিদ জওয়ান কণাদ ভট্টাচার্যের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই নিয়ে সরাসরি মন্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে চরমপন্থী মানসিকতা মাথাচাড়া দিচ্ছে। কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি উঠছে। কিন্তু ভারতের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনও আওয়াজ সহ্য করা হবে না।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে’ এই ধরনের স্লোগান দেওয়া হলে পুলিশ খুব মারবে। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যারা এই ধরনের স্লোগান দেবে, তাদের এমন মারুন যাতে সোজা হয়ে বাড়ি ফিরতে না পারে। কলকাতায় বললে যাতে পিজি, এনআরএসের ইমার্জেন্সিতে ঘুরে বাড়ি ফিরতে হয়। যাতে তারা বুঝতে পারে দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পরিণতি কী।’
শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা কখনওই এই ধরনের নিদান দিতে পারেন না।’
শমীক ভট্টাচার্য কাশ্মীর সমস্যা, পাকিস্তানের ভূমিকা এবং দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘দেশবিরোধী শক্তি নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।’ তিনি শুক্রবারের ছাত্র-যুব মিছিলের নিশানায় ছিলেন। নিট দুর্নীতির প্রতিবাদে কলকাতায় হওয়া মিছিল ধর্মতলায় গিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগ এবং কিছু স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কিছু অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি ফের প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে, সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে র্যাডিকালাইজেশনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’
শমীক ভট্টাচার্য বামেদেরও আক্রমণ করে বলেন, ‘অতীতে যারা দেশকে বিভক্ত করার রাজনীতি করেছে, তারাই এখন অন্য রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। এক সময় ওরা দেশকে ২৮টা টুকরো করতে চেয়েছিল। আমরা পুলিশকে বলছি আইন আইনের পথে চলবে।’
শমীক ভট্টাচার্য কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতা, বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের রাজনীতি চলবে না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী সরকার দেশ ও রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষায় লড়াই করবে। শ্যামাপ্রসাদ আমাদের কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এক অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সেই অখণ্ডতায় যাঁরা আঘাত হানতে চান, যাঁরা দেশ-বিরোধী চক্রান্তের শরিক সেই সব পাকিস্তানপন্থীদের বিরুদ্ধে আমাদের জোরদার লড়াই করতে হবে।’
Leave a Comment