রথযাত্রার দিনে দিঘা যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা পূর্ব মেদিনীপুরে। দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কের হেঁড়িয়ার কাছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বেসরকারি বাসে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারে একটি লরি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চারজন। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও তিনজন। তাঁদের তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাসের মালিক তপন দাস (৪৪), চালক শিবব্রত পট্টনায়েক (৫৯) এবং দুই হেলপার অশোক মাইতি ও শুভদীপ মণ্ডল। তপন দাসের বাড়ি বাজকুলে, শিবব্রত পট্টনায়েকের বাড়ি দিঘায়। অশোক মাইতি ভূপতিনগর এবং শুভদীপ মণ্ডল বাজকুলের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাওড়া থেকে দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বাসটি। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হেঁড়িয়ার কাছে বাসে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে সেটি রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে মেরামতির কাজ শুরু করেন চালক, মালিক এবং কর্মীরা।
ঠিক সেই সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। বাসের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মুহূর্তের মধ্যে লরির নিচে চাপা পড়েন। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থল রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে খেজুরি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকেরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি তিনজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরিটিকে আটক করেছে খেজুরি থানার পুলিশ। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং লরির গতি বা চালকের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
Leave a Comment